মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে সম্মত নয় গুয়াতেমালা

গুয়াতেমালার প্রেসিডেন্ট বার্নার্দো আরেভালোর প্রশাসন নিজেদের ভূখণ্ডে মার্কিন সামরিক অভিযানের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। বৃহস্পতিবার এক সরকারি বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কোনো বিদেশি শক্তির সামরিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ওয়াশিংটনের সঙ্গে গুয়াতেমালার কোনো সমঝোতা হয়নি। মূলত নিউইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, মাদক চোরাকারবারিদের দমনে গুয়াতেমালায় মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে একমত হয়েছেন প্রেসিডেন্ট আরেভালো। এই সংবাদের প্রেক্ষাপটেই সরকারিভাবে এমন ব্যাখ্যা দেওয়া হলো।

বিজ্ঞাপন

গুয়াতেমালার প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেনরি সায়েঞ্জ গত ২৮ মে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন। সেই চিঠিতে ওয়াশিংটনের সহায়তায় মাদক সিন্ডিকেট বা ‘ডেজিগনেটেড টেরোরিস্ট অর্গানাইজেশন’ (ডিটিও)-এর বিরুদ্ধে গুয়াতেমালার নেতৃত্বে যৌথ সামরিক অভিযানের আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। সরকারের ভাষ্যমতে, এই সহায়তার অনুরোধ বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা চুক্তির কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এটি কোনোভাবেই বিদেশি বাহিনীকে নিজেদের মাটিতে সরাসরি হামলার সুযোগ দেওয়া বা সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের শামিল নয়।

লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে মাদক ও গ্যাং সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় সরকারগুলো। গত জানুয়ারিতে গুয়াতেমালার পুলিশ সদস্যদের ওপর গ্যাংগুলোর প্রাণঘাতী হামলার পর প্রেসিডেন্ট আরেভালো জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিলেন। তবে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা তথ্যের আদান-প্রদানসহ পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী হলেও, লাতিন আমেরিকার অধিকাংশ নেতাই যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে বরাবরই সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসন লাতিন আমেরিকায় বলপ্রয়োগের ক্ষেত্রে যথেষ্ট তৎপর। গত এক বছরে ক্যারিবীয় সাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরে মাদকবিরোধী অভিযানে অন্তত ১৯৪ জন নিহত হয়েছেন, যা নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো ব্যাপক উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এছাড়া গত জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপসারণ ও অপহরণের ঘটনা এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। এই বাস্তবতায় দাঁড়িয়েই গুয়াতেমালা তার রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে এ ধরনের অস্বচ্ছ সমঝোতার দাবি নাকচ করে দিল।

বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%