ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করল বেলজিয়াম

ফিলিস্তিনের অধিকৃত ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতিগুলোতে উৎপাদিত পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেলজিয়ামের ফেডারেল সরকার। গ্রীষ্মকালীন ছুটির আগে মন্ত্রিসভার সর্বশেষ বৈঠকে এই কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে বেলজিয়ান নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের ফলে সৃষ্ট প্রাণহানি এবং মানবিক সংকটের প্রেক্ষাপটে গত বছর যে অঙ্গীকার করা হয়েছিল, এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে বেলজিয়াম তা বাস্তবায়ন করল।

বিজ্ঞাপন

ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীতি-নির্ধারণী পর্যায় থেকে এ বিষয়ে কোনো সম্মিলিত সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্বের প্রেক্ষাপটে বেলজিয়াম এই একক পদক্ষেপ নিয়েছে। বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রিভোট সম্প্রতি ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমকক্ষদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করেছিলেন। সে সময় তিনি ইউরোপীয় কমিশনের ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন যে, তারা কার্যকর কোনো কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ না করে কেবল দায়সারা পদক্ষেপ নিচ্ছে।

গ্লোবাল ইকো লিটিগেশন সেন্টারের সাম্প্রতিক এক তদন্তে দেখা গেছে, ইসরায়েল থেকে ইউরোপে আসা কৃষি পণ্যের বড় একটি অংশের উৎস অধিকৃত পশ্চিম তীরের বসতি। তদন্তে উন্মোচিত হয়েছে যে, রপ্তানিকারকরা পণ্যগুলোকে কৌশলে ‘ইসরায়েলি’ হিসেবে লেবেলযুক্ত করে বা মূল উৎস গোপন করে ইউরোপের বাজারে পাঠাচ্ছে। ইসরায়েলের মোট বাণিজ্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে সম্পন্ন হয়, যার গত বছরের অর্থমূল্য ছিল ৪৩ বিলিয়ন ইউরো বা ৪৮.৬৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

বেলজিয়াম বর্তমানে এমন দেশগুলোর তালিকায় যুক্ত হলো, যারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা না করেই নিজস্ব আইন প্রণয়ন করেছে। এর আগে স্পেন, নেদারল্যান্ডস, স্লোভেনিয়া এবং আয়ারল্যান্ড একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে মতভিন্নতা থাকায় এই ইস্যুতে জোটগতভাবে কঠোর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া এখনো সম্ভব হয়নি।

বিজ্ঞাপন

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাবেক ইতালীয় প্রধানমন্ত্রী এনরিকো লেত্তা এবং জার্মানির সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর সিগমার গ্যাব্রিয়েলসহ পাঁচজন বিশিষ্ট ইউরোপীয় নীতিনির্ধারক সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে ঐক্যবদ্ধ নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, কেবল একক দেশের নিষেধাজ্ঞা খুব একটা কার্যকর হয় না, কারণ এক দেশ দিয়ে প্রবেশ করা পণ্য পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভ্যন্তরে অবাধে চলাচল করতে পারে। তাদের দাবি, এই নিষেধাজ্ঞা কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নয়, বরং সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল থেকে আসা পণ্যের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রচলিত নীতিমালারই যথাযথ প্রয়োগ মাত্র।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%