কুশল মেন্ডিসের ব্যাটে বিধ্বংসী সূচনা, ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৪১ রানে হারিয়ে সিরিজে এগিয়ে শ্রীলঙ্কা

অধিনায়ক হিসেবে প্রত্যাবর্তনটা এর চেয়ে ভালো হতে পারত না কুশল মেন্ডিসের। সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কাকে ৪১ রানের এক দাপুটে জয় এনে দিয়েছেন তিনি। লঙ্কানদের ৩০০ রানের পাহাড়সম সংগ্রহের জবাবে ক্যারিবীয়রা শেষ পর্যন্ত অলআউট হওয়ার আগে করতে পেরেছে ২৬২ রান। দলের জয়ে মেন্ডিসের ৬২ বলে ৭২ রানের ঝলমলে ইনিংসটি ছিল মূল ভিত্তি।

বিজ্ঞাপন

ম্যাচটি শুরু হওয়ার পর পাথুম নিসাঙ্কা প্রথম দিকে সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি ওয়েস্ট ইন্ডিজের ফিল্ডাররা। কিচি কার্টির ভুলে জীবন পাওয়ার পর নিসাঙ্কা ও মেন্ডিস মিলে লঙ্কানদের শক্ত ভিত গড়ে দেন। কামিন্দু মেন্ডিস দ্রুত সাজঘরে ফিরলেও কুশল মেন্ডিস থিতু হয়ে খেলেন। বিশেষ করে গুডাকেশ মোতির বোলিং তোপে লঙ্কান অধিনায়ক যে বিধ্বংসী রূপ ধারণ করেছিলেন, তাতেই মূলত বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে যায় সফরকারীরা। ২০ ওভার শেষে দলের রান রেট পাঁচের উপরে নিয়ে গিয়ে মেন্ডিস নিজের অর্ধশতক তুলে নেন।

মাঝপথে ম্যাথু ফোর্ডের শিকার হওয়ার আগে মেন্ডিস ও নিসাঙ্কার জুটিতে শ্রীলঙ্কা বেশ স্বস্তিদায়ক অবস্থানে ছিল। নিসাঙ্কা ৭৯ রানে থামলে হাল ধরেন চারিথ আসালাঙ্কা এবং জানিথ লিয়ানাগে। আসালাঙ্কার ৪৫ এবং লিয়ানাগের অপরাজিত ৪৪ রানের সুবাদে শ্রীলঙ্কা নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ৩০৩ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ম্যাথু ফোর্ড ৪৪ রানের বিনিময়ে ২ উইকেট তুলে নেন।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শুরুটা করেছিল আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে। জন ক্যাম্পবেল এবং জাস্টিন গ্রিভস দ্রুত রান তোলায় মনোযোগী ছিলেন। মাত্র ৬ ওভারেই তারা ৫০ রান পার করে ফেলেছিল। তবে রান আউট এবং মাহিশ থিকসানার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শ্রীলঙ্কা ম্যাচে ফেরে। গ্রিভস ভালো শুরু করেও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন। অধিনায়ক শাই হোপ লড়াই চালিয়ে অর্ধশতক তুলে নিলেও দলের জয়ের জন্য তা যথেষ্ট ছিল না।

বিজ্ঞাপন

শেষ দিকে শেরফেন রাদারফোর্ড এবং রসটন চেজ দ্রুত বিদায় নিলে ক্যারিবীয়দের পরাজয় সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। দুষ্মন্ত চামিরা দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৬৭ রান খরচায় ৪ উইকেট শিকার করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। শেষ পর্যন্ত ৪৯.২ ওভারে ২৬২ রানেই গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। বল হাতে লঙ্কানদের হয়ে মাহিশ থিকসানা ২ উইকেট নিয়ে জয়ের পথে বড় অবদান রাখেন। লঙ্কানদের এই জয় সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দিল তাদের।

0%
0%
0%
0%