ম্যাচ পাতানোকে ফৌজদারি অপরাধ করার উদ্যোগ, সরকারের সঙ্গে বৈঠকে বসছে বিসিবি

দেশের ক্রিকেটে ফিক্সিং বা ম্যাচ পাতানোর মতো কলঙ্কজনক অধ্যায়ের কড়া জবাব দিতে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ক্রিকেটে ম্যাচ পাতানোকে দেওয়ানি অপরাধের গণ্ডি থেকে বের করে সরাসরি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে বোর্ড। বিসিবির অ্যাড-হক কমিটির সদস্য সাইদ ইব্রাহিম আহমেদ ক্রীড়াভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই কঠোর অবস্থানের কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে কলঙ্কমুক্ত রাখতে প্রয়োজনে আইন সংশোধন করে অপরাধীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে।
বর্তমান সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের পুত্র সাইদ ইব্রাহিম আহমেদ বিসিবির আসন্ন নির্বাচনে ক্যাটাগরি-২ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আগামী ৭ জুনের নির্বাচনে তার পরিচালনা পর্ষদে স্থান পাওয়ার সম্ভাবনাও প্রবল। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ফিক্সিংয়ের দায়ে বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার ও সংগঠককে নিষিদ্ধ করার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দুর্নীতি দমনে বিসিবি কোনো ধরনের আপস করবে না। সাম্প্রতিক এই কঠোর পদক্ষেপকে সকলের জন্য একটি চূড়ান্ত সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচনা করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
বিসিবির দুর্নীতি দমন ইউনিটের রিপোর্টের ভিত্তিতে সম্প্রতি বিসিবি ৫ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফিক্সিংয়ের অভিযোগে নোটিশ জারি করেছে এবং আইসিসির দুর্নীতি দমন কোড অনুযায়ী খেলোয়াড় ও দল মালিকদের অভিযুক্ত করা হয়েছে। ইব্রাহিম আহমেদ আশা প্রকাশ করেছেন যে, ফিক্সিংকে যদি দেওয়ানি অপরাধ থেকে ফৌজদারি অপরাধে রূপান্তর করা যায়, তবে যেকোনো খেলোয়াড় বা কর্মকর্তা এই ধরনের অন্যায় করার আগে শতবার ভাববেন। ক্রিকেটের মর্যাদাকে অক্ষুণ্ণ রাখতে সকল অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে এই প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের আইনি উপদেষ্টা মাহিন এম রহমান জানিয়েছেন, আসন্ন ঈদের ছুটির পরপরই এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হবে। প্রথমত, আইন কমিশন থেকে এই সংক্রান্ত আইনের খসড়া তৈরি করতে হবে এবং পরবর্তীতে আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে তা সংসদে পাস করতে হবে। ইতিমধ্যে এই আইনের খসড়া তৈরির কাজ চলছে এবং ঈদের পর সরকারের নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে এই বিষয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে, বিশেষ করে ক্রিকেট খেলুড়ে দেশ শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ পাতানোকে ইতিমধ্যে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। মাহিন এম রহমান জানান, শ্রীলঙ্কা অত্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে ক্রিকেটের জন্য এই আইন কার্যকর করেছে। বাংলাদেশেও বিদ্যমান দণ্ডবিধির আওতার বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং বিশেষ একটি আইন প্রণয়ন করা হতে পারে, যা সরাসরি ক্রিকেট এবং অন্যান্য খেলাধুলায় যেকোনো ধরনের দুর্নীতি ও ফিক্সিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির পথ সুগম করবে।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ বা বিপিএলের পথচলা শুরু থেকেই বারবার ফিক্সিংয়ের কালো ছায়ায় ঢাকা পড়েছে। ২০১২ সালে টুর্নামেন্টটির উদ্বোধনী আসর থেকেই বিভিন্ন সময়ে স্পট-ফিক্সিং ও ম্যাচ পাতানোর ঘটনা আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ২০১৩ সালের বিপিএলে ফিক্সিংয়ের দায়ে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুলকে বিপিএল দুর্নীতি দমন ট্রাইব্যুনাল ৮ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল, যার মধ্যে ৩ বছরের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা হয়। এই বিতর্কের জের ধরে ২০১৪ সালের বিপিএল আসরটি স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছিল বিসিবি।
