মুশফিকের শতকে জ্বলে উঠলো বাংলাদেশ

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সোমবার এক নতুন ইতিহাস রচনা করেছেন মুশফিকুর রহিম, যিনি এখন বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক। তার ট্রেডমার্ক উদযাপনের মধ্য দিয়ে ৩৯ বছর ৭ দিন বয়সী এই অভিজ্ঞ ব্যাটার তার ক্যারিয়ারের ১৪তম শতক পূর্ণ করে ছাড়িয়ে গেছেন মোমিনুল হকের ১৩ সেঞ্চুরির রেকর্ড। এটি কেবল ব্যক্তিগত কীর্তিই নয়, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে চলমান সিরিজে দলকে এক মজবুত অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও তার ইনিংস ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাঁহাতি পেসার মোহাম্মদ আব্বাসকে কাভার দিয়ে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন মুশফিকুর। এই সেঞ্চুরির মাধ্যমে তিনি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক সেঞ্চুরিয়ান হিসেবেও নিজের নাম লেখান।
মুশফিকুরের এই ইনিংসটি কেবল পরিসংখ্যানের বিচারে অসাধারণ ছিল না, এটি ছিল প্রচণ্ড চাপের মুখে এক লড়াকু অধিনায়কসুলভ দৃঢ়তার প্রতিচ্ছবি। পাকিস্তানের বোলাররা তাকে শর্ট বল দিয়ে পরাস্ত করার চেষ্টা করেছেন, রক্ষণাত্মক ফিল্ডিং সাজিয়েছেন, কিন্তু কোনো কৌশলই তাকে রুখতে পারেনি। তিনি অবিচল থেকেছেন, রানের চাকা সচল রেখেছেন এবং দলীয় স্কোরকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন।
জানুয়ারি ২০২৫ থেকে কমপক্ষে ২৫টি টেস্ট খেলা ব্যাটারদের মধ্যে, ১৯০৭ রান সংগ্রহ করে মুশফিকুরের ব্যাটিং গড় এখন ৪৬.৫১, যা বিশ্বের পঞ্চম সেরা। এই তালিকায় তার উপরে আছেন কেবল দীনেশ চান্দিমাল, হ্যারি ব্রুক, জো রুট এবং যশস্বী জয়সওয়াল।
তার দৃষ্টিনন্দন ১৩৭ রানের ইনিংসের সুবাদে বাংলাদেশ দিনের খেলা ১১০ রানে ৩ উইকেট থেকে শুরু করে ৩৯০ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে তোলে। সাজিদ খানের বলে ডিপ মিডউইকেটে ক্যাচ দিয়ে আউট হওয়ার আগে মুশফিকুর পাকিস্তানকে ৪৩৭ রানের কঠিন লক্ষ্য ছুড়ে দেওয়ার পেছনে মূল ভূমিকা রাখেন।
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, দলে তিন-চারজন সিনিয়র খেলোয়াড়ের উপস্থিতি আশীর্বাদস্বরূপ। তারা ম্যাচের পরিস্থিতি এবং দলের করণীয় সম্পর্কে আগেভাগেই অবগত থাকেন, যা দলকে সঠিক পথে চালিত করতে সহায়ক হয়। তাদের সান্নিধ্যে জুনিয়র খেলোয়াড়রাও বড় ইনিংস গড়া এবং কার্যকর জুটি তৈরির কৌশল রপ্ত করতে পারে, যা ক্রমান্বয়ে দলের উন্নতিতে অবদান রাখে।