টরন্টোয় রিবাকিনাকে উড়িয়ে কানাডিয়ান ওপেন জয় ইগা সোয়াতেকের

টরন্টোতে অনুষ্ঠিত কানাডিয়ান ওপেনের ফাইনালে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে শিরোপা জয় করেছেন ছয়বারের গ্র্যান্ড স্ল্যাম চ্যাম্পিয়ন ইগা সোয়াটেক। ফাইনালে তিনি এলিনা রিবাকিনাকে ৬-২ ও ৬-৩ সেটে পরাজিত করে চলতি মৌসুমে নিজের প্রথম শিরোপা ঘরে তুললেন। এই জয় আসন্ন ইউএস ওপেনের আগে পোলিশ এই তারকার আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে।
ম্যাচজুড়ে টরন্টোর গ্যালারিতে দর্শকদের ‘ইগা! ইগা!’ স্লোগান এবং পোলিশ পতাকার ওড়াউড়ি ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে বিজয়ী হওয়ার পরও সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে সোয়াটেক জানান, দেশের ভেতরের সমালোচনার কারণে তিনি কিছুটা ক্ষুব্ধ ছিলেন। অস্থিতিশীল ফর্ম এবং কোচ পরিবর্তনের মতো চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাওয়া মৌসুম সম্পর্কে তিনি বলেন, জয়ের পরও এমন অনুভূতি তার জীবনে প্রথম। তবে সব প্রতিকূলতা জয় করে নিজের মনোযোগ ধরে রাখা এবং প্রতিটি মাসে নিজেকে এগিয়ে নেওয়া নিয়ে তিনি গর্বিত।
কোর্টের লড়াইয়ে সোয়াটেক ছিলেন ক্ষুরধার ও দ্রুতগামী। উল্টোদিকে, কাজাখস্তানের এলিনা রিবাকিনা পুরো ম্যাচে নিজের ছায়া হয়ে ছিলেন। বিশ্বের দুই নম্বর এই তারকা প্রথম সেটে ১২টি আনফোর্সড এরর করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারান। তার শক্তিশালী সার্ভ সেভাবে কার্যকর হয়নি, পুরো ম্যাচে তিনি মাত্র একটি এইস করতে পেরেছেন। অন্যদিকে সোয়াটেক প্রতিপক্ষের সার্ভ ভেঙে দ্রুতই ম্যাচের দখল নেন এবং শেষ দিকে আত্মবিশ্বাসী শট খেলে জয় নিশ্চিত করেন।
ম্যাচ শেষে রিবাকিনা তার ক্লান্তি ও একাগ্রতার অভাবের কথা স্বীকার করেন। পুরো টুর্নামেন্টে সোয়াটেকের চেয়ে তিন ঘণ্টা বেশি সময় কোর্টে কাটাতে হয়েছিল তাকে, যার প্রভাব পড়েছিল তার পায়ের নড়াচড়ায়। রিবাকিনা জানান, পর্যাপ্ত শক্তির অভাব এবং একাগ্রতার ঘাটতিই ছিল তার হারের প্রধান কারণ।
কানাডিয়ান ওপেনের এই জয়ে ২৫ বছর বয়সী সোয়াটেক বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ পাঁচে ফিরে এলেন। প্রতিপক্ষ রিবাকিনার প্রশংসা করে তিনি বলেন, সেরা ছন্দে থাকলে রিবাকিনা যে কারো চেয়ে শক্তিশালী, তাই প্রতিটি সুযোগ কাজে লাগানোর কোনো বিকল্প ছিল না।
