AdvertisementAdvertisement

ফিফার নেতৃত্বে নজিরবিহীন সংকট, পদত্যাগের চাপে জিয়ান্নি ইনফান্তিনো

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফায় নজিরবিহীন নেতৃত্বের সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো তার কর্তৃত্ব বজায় রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনা থেকে সরে আসার পর ফিফার শীর্ষ কর্মকর্তারা ইনফান্তিনোর প্রতি পূর্ণ আস্থা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। মরক্কোর রাবাতে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে এই সংকট সমাধানের চেষ্টা চালানো হয়। মূলত উয়েফা, এএফসি এবং কনকাকাফের পক্ষ থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি এবং ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবির প্রেক্ষিতেই এই জরুরি সভার ডাক দেওয়া হয়েছিল।

ফিফার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাধারণ সম্পাদক মাতিয়াস গ্রাফস্ট্রোমসহ ব্যবস্থাপনা পর্ষদের সদস্যরা ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তারা দাবি করেছেন, ২১১টি সদস্য দেশের দ্বারা নির্বাচিত একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে ইনফান্তিনোই সংস্থার নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্য। অন্যদিকে, ইনফান্তিনো নিজেও ফিফা প্রশাসনের প্রতি নিজের সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। তবে সংস্থাটি স্বীকার করেছে যে, বিতর্কিত ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ প্রস্তাবের ক্ষেত্রে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ৪২০ কোটি মার্কিন ডলারের এই বাণিজ্যিক চুক্তির বিষয়টি নিয়ে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, কারণ এর সাথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিবারের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছিল।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

ফিফার তরফ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলে ক্ষমা চাওয়া হয়েছে এবং পুরো ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট তৈরি করা হবে। ফিফা কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, সংস্থার সততা নিয়ে কোনো প্রকার আক্রমণ তারা সহ্য করবে না এবং নিজেদের সুনাম রক্ষায় সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তবে এই সংকট রাতারাতি শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম। উয়েফা প্রকাশ্যে ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে একটি ‘ডকুমেন্ট প্রিজারভেশন লেটার’ প্রদান করেছে। এমনকি ইনফান্তিনোর সিনিয়র উপদেষ্টা কার্লোস করদেইরো প্রতিবাদ জানিয়ে পদত্যাগ করেছেন এবং কিংবদন্তি কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গারও বিতর্কিত এই পরিকল্পনা থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

দ্য টাইমস অব লন্ডনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উয়েফা, কনকাকাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন হুমকি দিয়েছিল যে, ইনফান্তিনো পদত্যাগ না করলে তারা ফিফার কার্যক্রম অচল করে দেবে অথবা সমান্তরাল কোনো প্রতিযোগিতা শুরু করবে। যদিও কাতার এবং বেশ কয়েকটি আফ্রিকান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এখন পর্যন্ত ইনফান্তিনোর পাশে থাকার কথা জানিয়েছে। আগামী মার্চ মাসে ফিফা কংগ্রেসে ইনফান্তিনোর চতুর্থ মেয়াদে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার কথা থাকলেও, এই অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ তার ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার দোলাচলে ফেলে দিয়েছে।

0%
0%
0%
0%