AdvertisementAdvertisement

ম্যারাডোনার করুণ পরিণতি এবং অবহেলার বিচার ঘিরে উত্তপ্ত আর্জেন্টাইন আদালত

ফুটবল ঈশ্বর দিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুরহস্য নিয়ে আর্জেন্টিনায় চলমান বিচারিক প্রক্রিয়ায় নতুন মোড় নিয়েছে চাঞ্চল্যকর সব সাক্ষ্য। ২০২০ সালে কিংবদন্তি এই ফুটবলারের মৃত্যুতে অবহেলার অভিযোগে এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে সাতজন স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর বিরুদ্ধে বিচারকার্য চলছে। আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আবেগপ্রবণ কণ্ঠে ম্যারাডোনার ব্যক্তিগত ম্যাসাজ থেরাপিস্ট নিকোলাস তাফারে ল জানান, জীবনের শেষ দিনগুলোতে শয্যাশায়ী ম্যারাডোনা অনেকটা হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন।

সাক্ষ্য প্রদানের সময় তাফারে ল বর্ণনা করেন যে, ৮৬ সালের বিশ্বকাপজয়ী এই মহাতারকা বিছানা থেকে উঠতে চাইতেন না, খেতে অনিচ্ছুক ছিলেন এবং নিজের ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার প্রতিও চরম উদাসীন হয়ে পড়েছিলেন। আদালতের শুনানিতে একটি অডিও বার্তা প্রকাশ করা হয়, যেখানে দেখা যায় তাফারে ল সেই সময় ম্যারাডোনার চিকিৎসকদের সতর্ক করেছিলেন যেন তারা প্রতিদিন নিয়মিত খোঁজখবর নেন। ম্যাসাজ থেরাপিস্টের আক্ষেপ, তার পর্যবেক্ষণ সত্ত্বেও চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

ম্যারাডোনার শারীরিক অবস্থার অবনতি সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি জানান, ফুটবল জাদুকরের শরীর ফুলে গিয়েছিল এবং পায়ের ফোলা ভাব স্পষ্ট ছিল। চিকিৎসকদের কাছে নিজের উদ্বেগের কথা জানালে তারা তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে এগুলো সময়ের সঙ্গে সেরে যাবে। কিন্তু সেই পরিস্থিতি আর স্বাভাবিক হয়নি। মৃত্যুর ঠিক আগের দিনও তাফারে ল তাকে চা পান করানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। ম্যারাডোনার সেই বিষণ্ণ উত্তর, ‘ইয়া এস্তা’ বা ‘সব শেষ’, আজও তার কানে বাজে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছিল তিনি জীবনের মায়া ত্যাগ করেছিলেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

পরের দিনই ৬০ বছর বয়সে হার্ট ফেইলিউর এবং ফুসফুসে পানি জমার জটিলতায় বিছানায় একা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই খেলোয়াড়। তার অস্ত্রোপচারের মাত্র দুই সপ্তাহ পরেই ঘটে এই মর্মান্তিক পরিণতি। বিচারের কাঠগড়ায় থাকা সাত অভিযুক্ত অবশ্য তাদের বিরুদ্ধে আনা অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, তারা নিজেদের বিশেষায়িত ক্ষেত্রের বাইরে কোনো ভূমিকা পালন করেননি এবং এই মৃত্যুর সঙ্গে তাদের সরাসরি কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। মামলার রায় বা পরিণতি কোন দিকে গড়ায়, তা নিয়ে পুরো বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গন এখন গভীর পর্যবেক্ষণে রয়েছে।

0%
0%
0%
0%