বিশ্বমঞ্চে রূপকথার লড়াই শেষেও মাথা উঁচু বিদায় কেপ ভার্দের

ফুটবল বিশ্বের পরাশক্তিদের ভিড়ে এক ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রের বীরত্বগাথা দেখল এবারের বিশ্বকাপ। গত শুক্রবার মায়ামি স্টেডিয়ামে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ গোলের হার নিয়ে মাঠ ছাড়লেও, কেপ ভার্দের খেলোয়াড়দের লড়াকু মানসিকতা জয় করে নিয়েছে ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়। নকআউট পর্বের রাউন্ড অব ৩২-এ বিদায় নিলেও, বিশ্বমঞ্চে ব্লু শার্কস নামে পরিচিত দেশটির অদম্য পথচলা ফুটবল ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে।
ম্যাচ শেষে গ্যালারি থেকে বেরিয়ে আসার সময় ৬৫ বছর বয়সী প্রিয়েতো ফের্নান্দেসের চোখেমুখে ছিল তৃপ্তির হাসি। তিনি জানান, কয়েক দশক আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কেপ ভার্দের নাম খুব কম মানুষই জানত, কিন্তু আজকের এই পারফরম্যান্সের পর বিশ্ববাসী নতুন করে চিনল আটলান্টিক মহাসাগরের কোলে অবস্থিত এই ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রটিকে। বড় হৃদয়ের লড়াই দিয়েই তারা বিশ্বের বাঘা বাঘা প্রতিপক্ষের মোকাবিলা করেছে।
টুর্নামেন্টের শুরুতে র্যাংকিংয়ের ৬৪তম স্থানে থাকা কেপ ভার্দেকে নিয়ে ফুটবল বোদ্ধাদের মাঝে ছিল যথেষ্ট সংশয়। কিন্তু স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়ে ফুটবল দুনিয়াকে চমকে দেন গোলরক্ষক ভোজিনহা। চল্লিশ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক ওই ম্যাচে সাতটি দুর্দান্ত সেভ করে রাতারাতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারকা বনে যান। পরবর্তী ম্যাচগুলোতে উরুগুয়ের সাথে ২-২ ড্র এবং সৌদি আরবের সাথে গোলশূন্য ড্র করে তারা জায়গা করে নেয় নকআউট পর্বে, যা দেশটির ফুটবল ইতিহাসে এক অনন্য অর্জন।
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে লিওনেল মেসিদের মতো দলের বিরুদ্ধে লড়ে কেপ ভার্দের এই দল যে চারিত্রিক দৃঢ়তা দেখিয়েছে, তা প্রশংসার দাবি রাখে। ডোরেইস ভেগা নামক একজন সমর্থক জানান, অনেকে ভেবেছিলেন আর্জেন্টিনা অনায়াসেই জয় পাবে, কিন্তু কেপ ভার্দে প্রমাণ করেছে ছোট দলগুলোরও দাপট দেখানোর ক্ষমতা থাকে। সমর্থকদের কাছে এই হার পরাজয় নয়, বরং এক গর্বের মাইলফলক।
পাঁচ লক্ষ মানুষের এই দেশটিতে ফুটবল কেবল একটি খেলা নয়, বরং সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। স্বাধীনতার ৫০তম বার্ষিকীর ঠিক পরপরই তাদের এই বিশ্বকাপ অভিষেক যেন পুরো জাতিকে নতুন স্বপ্ন দেখাল। আজ মায়ামির রাস্তায় উৎসবমুখর পরিবেশে কেপ ভার্দের সমর্থকরা তাদের জাতীয় পতাকা আর ঐতিহ্যবাহী পোশাকে জানান দিচ্ছে, মাঠের লড়াই শেষ হলেও তাদের জয়গান থামছে না। ৩-২ গোলের এই হার যেন এক নতুন ভোরের ইঙ্গিত, যেখানে কেপ ভার্দে এখন আর মানচিত্রের অজানা কোনো বিন্দু নয়, বরং ফুটবল বিশ্বের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।