সিনেট শুনানিতে পঞ্চদশ সংশোধনী ব্যবহার করে প্রশ্নের জবাব দিলেন না অ্যান্থনি ফাউচি

যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় নিজের ভূমিকা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েছেন প্রখ্যাত রোগতত্ত্ববিদ অ্যান্থনি ফাউচি। বুধবার সিনেটের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অ্যান্ড গভর্নমেন্ট অ্যাফেয়ার্স কমিটির শুনানিতে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের তোপের মুখে পড়েন ৮৫ বছর বয়সী এই চিকিৎসক। এ সময় তিনি সাংবিধানিক অধিকারের সুরক্ষা নিয়ে নিজের জবানবন্দি প্রদানে অস্বীকৃতি জানান।
কেন্টাকির রিপাবলিকান সিনেটর র্যান্ড পল দীর্ঘ দিন ধরেই ফাউচির কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচক। তিনি দাবি করেন, ফাউচি চীনের গবেষণাগারে ভাইরাস সংক্রান্ত গবেষণায় অর্থায়নের মাধ্যমে মহামারি ছড়িয়ে পড়ায় ভূমিকা রেখেছেন এবং পরবর্তীতে তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। শুনানিতে পল অভিযোগ করেন যে, এই গবেষণার ঝুঁকি যেকোনো সম্ভাব্য সুবিধার চেয়ে অনেক বেশি ছিল এবং ফাউচির উচিত ছিল তা স্বীকার করে নেওয়া।
জবাবে অ্যান্থনি ফাউচি প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরে অভিন্ন ভাষ্য প্রদান করে বলেন, আইনজীবীর পরামর্শ অনুযায়ী তিনি পঞ্চম সংশোধনীর অধীনে প্রাপ্ত সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করছেন এবং কোনো প্রশ্নের উত্তর প্রদানে বিরত থাকছেন। নিজের বক্তব্যের প্রারম্ভে ফাউচি উল্লেখ করেন, র্যান্ড পলের মূল উদ্দেশ্য হলো তাকে আইনগত জটিলতায় ফেলে কারাবন্দি করা। তার মতে, নিজের কথাগুলোকে বিকৃত করে তাকে ফৌজদারি অপরাধী সাব্যস্ত করার অপচেষ্টা চলছে।
মহামারি চলাকালীন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ফাউচি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সংকটের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দিকে এবং পরবর্তী সময়ে জো বাইডেনের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি বহুবার রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন। রিপাবলিকানদের অভিযোগ, তিনি ভাইরাসের উৎপত্তি নিয়ে সত্য গোপন করেছেন, যা তিনি বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি নিজের বিরুদ্ধে যেতে পারে এমন জবানবন্দি দেওয়া থেকে নিজেকে রক্ষা করার আইনি অধিকার রাখেন। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অধিকার প্রয়োগ করার মানেই যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অপরাধী, তা নয়। তবে ফাউচির এই পদক্ষেপ দেশটিতে মহামারি নিয়ে চলমান দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মেরুকরণকে আরও উসকে দিতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
ভাইরাসের উৎপত্তি নিয়ে বৈজ্ঞানিক মহলে এখন পর্যন্ত ‘জুনোটিক স্পিলওভার’ বা প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে ভাইরাস সংক্রমণের তত্ত্বটিই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত। তবে র্যান্ড পলসহ কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা গবেষণাগারে ভাইরাস সৃষ্টির তত্ত্বকে গুরুত্ব দিচ্ছেন, যদিও এর স্বপক্ষে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ফাউচির এই অবস্থানের বিপরীতে দেশটির চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীরা তার প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। ১৫০ জনের বেশি সংক্রামক ব্যাধি বিশেষজ্ঞ এক যৌথ বিবৃতিতে ফাউচির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে ‘ভিত্তিহীন’ এবং তাকে হয়রানির অপচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ২০২৪ সালে পরিচালিত অপর একটি রিপাবলিকান সাব-কমিটির তদন্তেও ফাউচির বিরুদ্ধে কোনো অসাধু কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা