Infinix Smart 9 HD
General & Launch
Network
Body
Display
Platform
Memory
Camera
Sound
Connectivity
Battery
Features
- আকর্ষণীয় ডিজাইন ও টেকসই বিল্ড কোয়ালিটি।
- ৯০/১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট সহ পাঞ্চ-হোল ডিসপ্লে।
- দীর্ঘস্থায়ী ৫০০০ এমএএইচ ব্যাটারি।
- টাইপ-সি চার্জিং পোর্ট সুবিধা।
- ডুয়েল স্টেরিও স্পিকার সেটআপ (কিছু মডেলে)।
- পর্যাপ্ত আলোতে ভালো ক্যামেরা পারফর্মেন্স।
- সাইড মাউন্টেড ফাস্ট ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর।
- চার্জিং গতি ধীর (১০ ওয়াট)।
- হেভি গেমিংয়ের জন্য উপযুক্ত নয়।
- ডিসপ্লের নিচের বেজেল বা চিন কিছুটা মোটা।
- প্রচুর অপ্রয়োজনীয় প্রি-ইনস্টল অ্যাপ (Bloatware)।
বিস্তারিত
Infinix Smart 9 HD market price in Bangladesh is ১০,২৯৯ টাকা (আনুমানিক)। বাংলাদেশের এন্ট্রি লেভেল স্মার্টফোন বাজারে Infinix সর্বদা তাদের অবস্থান শক্ত করে ধরে রেখেছে। তাদের স্মার্ট সিরিজের এই নতুন সংস্করণটি মূলত সেই সব গ্রাহকদের লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছে, যারা কম বাজেটে প্রিমিয়াম লুক এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য ডিভাইস খুঁজছেন। আজকের এই রিভিউতে আমরা ডিভাইসটির প্রতিটি দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করব। ডিজাইন থেকে শুরু করে পারফর্মেন্স, ক্যামেরা এবং ব্যাটারি—সবকিছু নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
ডিজাইন ও বিল্ড কোয়ালিটি Infinix Smart 9 HD ফোনটি হাতে নিলেই এর আধুনিক এবং মার্জিত ডিজাইন আপনার নজর কাড়বে। ফোনটির ডিজাইন ফিলোসফিতে অ্যাপলের প্রিমিয়াম ডিভাইসের কিছুটা ছোঁয়া পাওয়া যায়, বিশেষ করে এর ক্যামেরা মডিউলের বিন্যাসে। পেছনের প্যানেলটি পলিকার্বোনেট বা উন্নত মানের প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি হলেও এটি বেশ শক্তপোক্ত এবং প্রিমিয়াম অনুভূতি দেয়। টেক্সচার্ড ফিনিশ থাকার কারণে এটি সহজে হাত থেকে পিছলে যায় না এবং আঙুলের ছাপ পড়ার প্রবণতাও কম।
ফোনের ডান পাশে পাওয়ার বাটন এবং ভলিউম রকার দেওয়া হয়েছে। পাওয়ার বাটনটি ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর হিসেবেও কাজ করে, যা এই বাজেটের ফোনে একটি বড় সুবিধা। বাম পাশে রয়েছে সিম ট্রে, যেখানে দুটি ন্যানো সিম এবং একটি মাইক্রো এসডি কার্ড একই সাথে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। নিচের অংশে রয়েছে টাইপ-সি চার্জিং পোর্ট, স্পিকার গ্রিল, প্রাইমারি মাইক্রোফোন এবং ৩.৫ মিমি হেডফোন জ্যাক। ফোনটির ওজন বেশ ভারসাম্যপূর্ণ, তাই দীর্ঘক্ষণ হাতে ধরে রাখলেও ক্লান্তি অনুভব হবে না। বক্সি ডিজাইনের কারণে এটি গ্রিপ করতে বেশ সুবিধা হয়।
ডিসপ্লে ও ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা এই ডিভাইসটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ৬.৭ ইঞ্চির একটি বিশাল আইপিএস এলসিডি প্যানেল। এই বাজেটের অধিকাংশ ফোনে যেখানে সাধারণ ওয়াটার ড্রপ নচ দেখা যায়, সেখানে Infinix Smart 9 HD তে ব্যবহার করা হয়েছে আধুনিক পাঞ্চ-হোল কাটআউট। এটি ফোনটির সামনের অংশের সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
ডিসপ্লেটির রেজোলিউশন এইচডি প্লাস (৭২০ x ১৬০০ পিক্সেল)। যদিও এটি ফুল এইচডি নয়, তবুও কালার রিপ্র প্রোডাকশন এবং ভিউইং অ্যাঙ্গেল এই দামের তুলনায় বেশ সন্তোষজনক। ইউটিউব ভিডিও দেখা বা সাধারণ ওয়েব ব্রাউজিংয়ে ডিসপ্লেটি বেশ উজ্জ্বল এবং শার্প। এতে ৯০ হার্টজ (কিছু ভেরিয়েন্টে ১২০ হার্টজ পর্যন্ত) রিফ্রেশ রেট সাপোর্ট রয়েছে, যা ইউজার ইন্টারফেস এবং স্ক্রলিং অভিজ্ঞতাকে মাখন এর মতো মসৃণ করে তোলে।
৫০০ নিটস পিক ব্রাইটনেস থাকার কারণে দিনের আলোতেও ডিসপ্লেটি দেখতে খুব একটা সমস্যা হয় না, তবে সরাসরি কড়া রোদে কিছুটা রিফ্লেকশন হতে পারে। ডিসপ্লের বেজেলগুলো মোটামুটি সরু হলেও নিচের দিকের চিন অংশটি কিছুটা চওড়া, যা এই বাজেটে খুবই স্বাভাবিক।
পারফর্মেন্স ও হার্ডওয়্যার Infinix Smart 9 HD এর মূল চালিকাশক্তি হিসেবে রয়েছে মিডিয়াটেক হেলিও জি৮১ (Helio G81) চিপসেট। এটি একটি অক্টা-কোর প্রসেসর যা দৈনন্দিন কাজগুলো সামলানোর জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।
প্রসেসরটি খুব শক্তিশালী না হলেও সোশ্যাল মিডিয়া ব্রাউজিং, ইউটিউব স্ট্রিমিং এবং সাধারণ মাল্টিটাস্কিংয়ের জন্য যথেষ্ট। এর সাথে রয়েছে ৩ জিবি বা ৪ জিবি র্যামের অপশন, যা ভার্চুয়াল র্যাম ফিচারের মাধ্যমে আরও বাড়িয়ে নেওয়া সম্ভব। মেমোরি ম্যানেজমেন্ট মোটামুটি ভালো, তবে একসাথে অনেকগুলো ভারি অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে চালু রাখলে কিছুটা ল্যাগ বা ধীরগতি লক্ষ্য করা যেতে পারে।
গেমিংয়ের ক্ষেত্রে এই ফোনটি হেভি গেমারদের জন্য নয়। পাবজি বা ফ্রি ফায়ারের মতো গেমগুলো লো বা মিডিয়াম সেটিংসে খেলা সম্ভব হলেও দীর্ঘক্ষণ খেললে ফ্রেম ড্রপ এবং সামান্য হিটিং ইস্যু দেখা দিতে পারে। তবে সাবওয়ে সার্ফার বা ক্যান্ডি ক্রাশের মতো ক্যাজুয়াল গেমগুলো এতে খুব সুন্দরভাবে চলে।
সফটওয়্যার ও ইউজার ইন্টারফেস ফোনটি অ্যান্ড্রয়েড ১৪ (গো এডিশন) ভিত্তিক XOS 14 ইন্টারফেসে চলে। গো এডিশন হওয়ার কারণে অপারেটিং সিস্টেমটি বেশ হালকা এবং কম রিসোর্স ব্যবহার করে চলে, যা এন্ট্রি লেভেল হার্ডওয়্যারের সাথে ভালো সামঞ্জস্য বজায় রাখে। XOS এর ইন্টারফেসে প্রচুর কাস্টমাইজেশন অপশন রয়েছে। থিম স্টোর, স্মার্ট প্যানেল এবং বিভিন্ন জেশ্চার কন্ট্রোল ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। তবে প্রি-ইনস্টল করা কিছু ব্লোটওয়্যার বা অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ বিরক্তির কারণ হতে পারে। যদিও এর মধ্যে কিছু অ্যাপ আনইনস্টল করা যায়। Infinix তাদের ডায়নামিক বার (Dynamic Bar) ফিচারটি এই ফোনেও দিয়েছে, যা চার্জিং স্ট্যাটাস বা ফেস আনলকের সময় নচ এর আশেপাশে একটি সুন্দর অ্যানিমেশন তৈরি করে।
ক্যামেরা সেকশন বাজেট ফোনে সাধারণত ক্যামেরার ওপর খুব বেশি জোর দেওয়া হয় না, তবে Infinix Smart 9 HD এখানে কিছুটা ব্যতিক্রম। এর পেছনে রয়েছে ১৩ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা এবং একটি সেকেন্ডারি এআই লেন্স। দিনের পর্যাপ্ত আলোতে প্রধান ক্যামেরা দিয়ে তোলা ছবিগুলো বেশ ভালো মানের হয়। কালার স্যাচুরেশন এবং ডিটেইলস এই বাজেটের ফোন হিসেবে গ্রহণযোগ্য। এইচডিআর মোড অন থাকলে ডাইনামিক রেঞ্জ কিছুটা ভালো পাওয়া যায়। তবে ইনডোর বা কম আলোতে ছবির মান কিছুটা কমে যায় এবং নয়েজ বা গ্রেইন দেখা যায়। নাইট মোড ব্যবহার করে এই ঘাটতি কিছুটা কমানো সম্ভব।
ভিডিওর ক্ষেত্রে এটি ১০৮০পি ৩০ এফপিএস-এ ভিডিও রেকর্ড করতে সক্ষম। ভিডিওতে স্ট্যাবিলাইজেশনের অভাব থাকলেও সাধারণ ব্যবহারের জন্য এটি ঠিক আছে। সেলফি তোলার জন্য সামনে রয়েছে ৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা। এটি দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করার মতো সুন্দর সেলফি তোলা সম্ভব। বিউটি মোড এবং পোর্ট্রেট মোড সেলফিতে বাড়তি মাত্রা যোগ করে। সামনে এবং পেছনে উভয় দিকেই ফ্ল্যাশ লাইট রয়েছে, যা অন্ধকারে ছবি তুলতে সাহায্য করে।
ব্যাটারি ও চার্জিং Infinix Smart 9 HD তে রয়েছে ৫০০০ এমএএইচ এর বিশাল ব্যাটারি। এন্ট্রি লেভেল প্রসেসর এবং এইচডি প্লাস ডিসপ্লে হওয়ার কারণে ব্যাটারি ব্যাকআপ অসাধারণ। সাধারণ ব্যবহারে অনায়াসেই দেড় থেকে দুই দিন পার করে দেওয়া সম্ভব। এমনকি টানা ইন্টারনেট ব্যবহার বা ভিডিও দেখলেও এক দিন পার হয়ে যাবে। তবে চার্জিং স্পিড নিয়ে কিছুটা আপস করতে হবে। বক্সে দেওয়া ১০ ওয়াটের চার্জার দিয়ে বিশাল এই ব্যাটারি পূর্ণ চার্জ করতে প্রায় তিন ঘণ্টার মতো সময় লাগতে পারে। তবে খুশির খবর হলো এতে টাইপ-সি পোর্ট ব্যবহার করা হয়েছে, যা এই বাজেটে এখনো অনেক কোম্পানি এড়িয়ে চলে।
নেটওয়ার্ক ও কানেক্টিভিটি এটি একটি ৪জি সাপোর্টেড ফোন। উভয় সিম স্লটেই ৪জি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা যায়। কল কোয়ালিটি বেশ পরিষ্কার এবং লাউডস্পিকারের সাউন্ডও যথেষ্ট জোরালো। ব্লুটুথ, জিপিএস এবং ওটিজি সাপোর্ট রয়েছে। এফএম রেডিও বিল্ট-ইন থাকায় হেডফোন লাগিয়ে রেডিও শোনা যাবে। ওয়াই-ফাই রিসিপশন শক্তিশালী এবং স্টেবল সংযোগ প্রদান করে।
নিরাপত্তা নিরাপত্তার জন্য এতে সাইড মাউন্টেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর এবং ফেস আনলক সুবিধা রয়েছে। ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরটি বেশ দ্রুত এবং নির্ভুল। পাওয়ার বাটনের সাথে ইন্টিগ্রেটেড হওয়ায় এটি ব্যবহার করাও সহজ। ফেস আনলক দিনের আলোতে ভালো কাজ করলেও কম আলোতে কিছুটা সময় নিতে পারে।
সবশেষে বলা যায়, Infinix Smart 9 HD তাদের জন্যই যারা খুব কম বাজেটে একটি স্টাইলিশ এবং অলরাউন্ডার ফোন খুঁজছেন। এটি হয়তো পারফর্মেন্স বিস্ট নয়, কিন্তু দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজন মেটানোর জন্য এটি একটি নির্ভরযোগ্য সঙ্গী হতে পারে। বিশেষ করে এর ডিসপ্লে এবং ব্যাটারি সেগমেন্ট একে বাজারের অন্যান্য প্রতিযোগীদের থেকে এগিয়ে রাখে। শিক্ষার্থী বা বয়স্কদের জন্য, অথবা সেকেন্ডারি ফোন হিসেবে ব্যবহারের জন্য এটি একটি আদর্শ পছন্দ হতে পারে।