Infinix Hot 10 Play
General & Launch
Network
Body
Display
Platform
Memory
Camera
Sound
Connectivity
Battery
Features
- ৬০০০ এমএএইচ বিশাল ব্যাটারি ও ম্যারাথন ব্যাকআপ।
- ৬.৮২ ইঞ্চির বিশাল ডিসপ্লে (ভিডিও দেখার জন্য উত্তম)।
- কম দামে ভালো র্যাম ও স্টোরেজ ভেরিয়েন্ট।
- আকর্ষণীয় গ্লেজ-লাইক ডিজাইন।
- ফ্রন্ট ফ্ল্যাশলাইট সেলফির জন্য।
- ডেডিকেটেড মাইক্রো এসডি কার্ড স্লট।
- চার্জিং গতি খুব ধীর (১০ ওয়াট)।
- চার্জিং পোর্ট মাইক্রো ইউএসবি (টাইপ-সি নেই)।
- ডিসপ্লের রেজোলিউশন ৭২০পি (শার্পনেস কম)।
- সিস্টেমে প্রচুর ব্লোটওয়্যার ও বিজ্ঞাপন।
- লো-লাইটে ক্যামেরা পারফর্মেন্স দুর্বল।
বিস্তারিত
Infinix Hot 10 Play market price in Bangladesh is ১০,৪৯০ টাকা (৪/৬৪ জিবি ভেরিয়েন্ট, সর্বশেষ অফিসিয়াল প্রাইস)। ইনফিনিক্স তাদের ‘হট’ সিরিজের মাধ্যমে বাংলাদেশের বাজেট স্মার্টফোন বাজারে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। বিশেষ করে যারা ১০ থেকে ১২ হাজার টাকার মধ্যে বিশাল ডিসপ্লে এবং দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারির খোঁজ করেন, তাদের কাছে ইনফিনিক্স হট ১০ প্লে একটি অত্যন্ত পরিচিত নাম।
২০২১ সালের শুরুর দিকে বাজারে আসা এই ফোনটি ইনফিনিক্সের “প্লে” সাব-সিরিজের অন্তর্ভুক্ত, যার মূল লক্ষ্যই হলো গেমিং এবং মাল্টিমিডিয়া ব্যবহারের জন্য বড় স্ক্রিন ও বড় ব্যাটারি প্রদান করা। যদিও বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে ফোনটি কিছুটা পুরনো মনে হতে পারে, তবুও সেকেন্ডারি ডিভাইস হিসেবে বা সাধারণ ব্যবহারের জন্য এর জনপ্রিয়তা একেবারে ফুরিয়ে যায়নি। আজকের এই পর্যালোচনায় আমরা দেখব, এই ফোনটি দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারে কেমন পারফর্মেন্স দেয় এবং বাজেট ইউজারদের চাহিদা এটি কতটা পূরণ করতে সক্ষম।
ডিজাইন ও বিল্ড কোয়ালিটি Infinix Hot 10 Play এর ডিজাইন বেশ বড়সড় এবং মজবুত। ফোনটি হাতে নিলেই এর বিশাল আকৃতি এবং ওজন অনুভব করা যায়। এর ওজন প্রায় ২০৭ গ্রাম এবং পুরুত্ব ৮.৯ মিলিমিটার। ৬০০০ এমএএইচ এর বিশাল ব্যাটারি থাকার কারণেই ফোনটি কিছুটা ভারি এবং মোটা। তবে পেছনের প্যানেলের ডিজাইন একে একটি আধুনিক লুক দিয়েছে। এর ব্যাক প্যানেলে পলিকার্বোনেট বা প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে একটি গ্লসি ফিনিশ এবং ইউনিক প্রিজম প্যাটার্ন রয়েছে।
আলোর প্রতিফলনে এই প্যাটার্নটি ঢেউয়ের মতো দেখায়, যা ফোনটিকে একঘেয়েমি থেকে রক্ষা করে। ফোনটি মোট চারটি রঙে বাজারে এসেছিল—ইজিয়ান ব্লু, মোরান্ডি গ্রিন, অবসিডিয়ান ব্ল্যাক এবং পার্পল। পেছনের ক্যামেরা মডিউলটি আয়তাকার এবং সেখানে দুটি লেন্স ও একটি এলইডি ফ্ল্যাশ এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যেন মনে হয় এটি কোয়াড ক্যামেরা সেটআপ। ক্যামেরা মডিউলের ঠিক পাশেই রয়েছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর।
সেন্সরটির অবস্থান একটু ওপরের দিকে হওয়ায় ছোট হাতের মানুষদের এটি নাগাল পেতে কিছুটা কষ্ট হতে পারে। ফোনের ডান পাশে পাওয়ার বাটন এবং ভলিউম রকার রয়েছে। বাম পাশে সিম ট্রে, যেখানে দুটি সিম এবং একটি মাইক্রো এসডি কার্ড একই সাথে ব্যবহার করা যায়। নিচের অংশে মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট, ৩.৫ মিমি হেডফোন জ্যাক এবং একটি মাত্র স্পিকার গ্রিল রয়েছে। বিল্ড কোয়ালিটি প্লাস্টিকের হলেও এটি বেশ সলিড মনে হয়, তবে গ্লসি ফিনিশ হওয়ায় এতে সহজেই স্ক্র্যাচ এবং আঙুলের ছাপ পড়ে। তাই কভার ব্যবহার করা বাঞ্ছনীয়।
ডিসপ্লে ও ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা এই ফোনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো এর বিশাল ডিসপ্লে। এতে ব্যবহার করা হয়েছে ৬.৮২ ইঞ্চির একটি আইপিএস এলসিডি প্যানেল। এত বড় ডিসপ্লে বাজেট ফোনে খুব একটা দেখা যায় না। ইনফিনিক্স একে “ভিডিও প্লেয়িং” ফোন হিসেবে প্রচার করেছিল। ডিসপ্লেটির রেজোলিউশন এইচডি প্লাস (৭২০ x ১৬৪০ পিক্সেল)।
এত বড় স্ক্রিনে ৭২০পি রেজোলিউশন হওয়ার কারণে পিক্সেল ডেনসিটি কিছুটা কম (২৬৩ পিপিআই)। ফলে খুব কাছ থেকে দেখলে টেক্সট বা আইকনগুলো সামান্য ফেটে যাওয়া বা ব্লারি মনে হতে পারে। তবে সাধারণ দূরত্ব থেকে ভিডিও দেখা বা গেম খেলার সময় এটি খুব একটা চোখে পড়ে না। ডিসপ্লের কালার রিপ্রোডাকশন এবং কন্ট্রাস্টিং লেভেল এই বাজেটের ফোন হিসেবে গ্রহণযোগ্য। ভিডিও দেখার সময় কালারগুলো বেশ উজ্জ্বল দেখায়।
ডিসপ্লের ব্রাইটনেস ৪৪০ নিটস, যা ঘরের ভেতরে ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত হলেও কড়া রোদে ডিসপ্লে দেখতে কিছুটা সমস্যা হতে পারে। ডিসপ্লের ওপরের দিকে ওয়াটার ড্রপ নচ রয়েছে, যা ফোনের স্ক্রিন-টু-বডি রেশিও বাড়াতে সাহায্য করেছে। যারা ফোনে মুভি দেখতে বা ইউটিউব ব্রাউজ করতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য এই বিশাল ডিসপ্লেটি একটি বড় সুবিধা।
পারফর্মেন্স ও হার্ডওয়্যার Infinix Hot 10 Play ফোনটি দুটি ভিন্ন প্রসেসর ভেরিয়েন্টে বাজারে এসেছিল। ২ জিবি র্যাম ভেরিয়েন্টে ছিল মিডিয়াটেক হেলিও জি২৫ এবং ৪ জিবি র্যাম ভেরিয়েন্টে ছিল মিডিয়াটেক হেলিও জি৩৫ (Helio G35) চিপসেট। বাংলাদেশে ৪/৬৪ জিবি ভেরিয়েন্টটিই বেশি জনপ্রিয় ছিল, যাতে হেলিও জি৩৫ ব্যবহার করা হয়েছে। এটি একটি ১২ ন্যানোমিটার অক্টা-কোর প্রসেসর। এই প্রসেসরটি মূলত এন্ট্রি লেভেল গেমিং চিপসেট হিসেবে পরিচিত।
দৈনন্দিন কাজ যেমন—ফেসবুক, মেসেঞ্জার, ইমো, ইউটিউব এবং ওয়েব ব্রাউজিংয়ের জন্য এই কনফিগারেশনটি যথেষ্ট। ৪ জিবি র্যাম থাকায় মাল্টিটাস্কিং মোটামুটি ভালোভাবে করা যায়, তবে ব্যাকগ্রাউন্ডে অনেকগুলো ভারী অ্যাপ চালু থাকলে ফোনটি কিছুটা ধীরগতির হতে পারে। গেমিংয়ের ক্ষেত্রে, ইনফিনিক্সের “হাইপার ইঞ্জিন গেম টেকনোলজি” কিছুটা সহায়তা করে। ফ্রি ফায়ার বা পাবজি মোবাইলের মতো গেমগুলো লো বা ব্যালেন্সড গ্রাফিক্স সেটিংসে খেলা সম্ভব।
তবে হাই গ্রাফিক্স বা হাই ফ্রেম রেটে খেলতে গেলে ল্যাগ এবং ফ্রেম ড্রপ দেখা যাবে। সাবওয়ে সার্ফার, টেম্পল রান বা ক্যান্ডি ক্রাশের মতো ক্যাজুয়াল গেমগুলো এতে খুব সুন্দরভাবে চলে। দীর্ঘক্ষণ গেম খেললে ফোনের ক্যামেরা অংশের পাশে কিছুটা গরম হতে পারে, যা এই রেঞ্জের ফোনে স্বাভাবিক।
সফটওয়্যার ও ইউজার ইন্টারফেস ফোনটি অ্যান্ড্রয়েড ১০ (গো এডিশন বা সাধারণ, ভেরিয়েন্ট ভেদে) ভিত্তিক এক্সওএস ৭ (XOS 7) ইন্টারফেসে চলে। ইনফিনিক্সের এক্সওএস ইন্টারফেসে প্রচুর কাস্টমাইজেশন ফিচার রয়েছে। যেমন—স্মার্ট প্যানেল, গেম মোড, সোশ্যাল টার্বো (হোয়াটসঅ্যাপের জন্য বিশেষ ফিচার) এবং বিভিন্ন জেশ্চার কন্ট্রোল।
এছাড়াও থিম স্টোর থেকে আপনি ফোনের লুক পরিবর্তন করতে পারবেন। তবে ইনফিনিক্সের সফটওয়্যারের একটি বড় নেতিবাচক দিক হলো ব্লোটওয়্যার। ফোনটি চালু করার সাথে সাথেই অনেকগুলো অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ এবং গেম দেখা যায়, যা আনইনস্টল করা যায় না। এগুলো মাঝেমধ্যে বিরক্তিকর বিজ্ঞাপন বা নোটিফিকেশন পাঠায়। যদিও কিছু সেটিংস পরিবর্তন করে এই বিজ্ঞাপনগুলো কিছুটা কমানো সম্ভব। এক্সওএস ইন্টারফেসটি দেখতে বেশ রঙিন এবং ফিচার প্যাকড, তবে এটি পিওর অ্যান্ড্রয়েডের মতো হালকা নয়।
ক্যামেরা সেকশন ফটোগ্রাফির জন্য ফোনের পেছনে ডুয়েল ক্যামেরা সেটআপ রয়েছে। প্রধান ক্যামেরাটি ১৩ মেগাপিক্সেলের এবং সাথে একটি এআই লেন্স রয়েছে। দিনের পর্যাপ্ত আলোতে ১৩ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা দিয়ে তোলা ছবিগুলো বেশ ভালো মানের হয়। ছবির ডিটেইলস এবং কালার স্যাচুরেশন এই দামের ফোন হিসেবে সন্তোষজনক। এআই সিন ডিটেকশন ফিচারটি অটোমেটিক্যালি পরিবেশ বুঝে কালার অ্যাডজাস্ট করতে সাহায্য করে। তবে ডাইনামিক রেঞ্জ খুব একটা ভালো নয়, তাই আকাশের বিপরীতে ছবি তুললে আকাশ জ্বলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
কম আলোতে বা রাতে ছবি তোলার সময় ক্যামেরার দুর্বলতা প্রকাশ পায়। ছবিতে প্রচুর নয়েজ থাকে এবং ডিটেইলস হারিয়ে যায়। ইনফিনিক্সের “সুপার নাইট মোড” কিছুটা সাহায্য করলেও তা খুব আহামরি কিছু নয়।
এআই লেন্সটি মূলত পোর্ট্রেট মোডে এজ ডিটেকশনে সহায়তা করে, তবে এর কার্যকারিতা সীমিত। সেলফি তোলার জন্য সামনে ৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা রয়েছে। সামনে একটি এলইডি ফ্ল্যাশও দেওয়া হয়েছে, যা অন্ধকারে সেলফি তুলতে দারুণ সাহায্য করে। দিনের আলোতে সেলফিগুলো বেশ পরিষ্কার আসে এবং বিউটি মোড ব্যবহার করে স্কিন স্মুথ করা যায়। ভিডিওর ক্ষেত্রে এটি ১০৮০পি ৩০ এফপিএস-এ ভিডিও রেকর্ড করতে সক্ষম। ভিডিওতে কোনো স্ট্যাবিলাইজেশন নেই, তাই হাঁটার সময় ভিডিও করলে ফুটেজ কাঁপতে পারে।
ব্যাটারি ও চার্জিং Infinix Hot 10 Play এর সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো এর ব্যাটারি। এতে রয়েছে ৬০০০ এমএএইচ এর বিশাল ব্যাটারি। ইনফিনিক্স একে “পাওয়ার ম্যারাথন” টেকনোলজি দিয়ে অপ্টিমাইজ করেছে। সাধারণ ব্যবহারে এই ফোনটি অনায়াসেই দুই থেকে আড়াই দিন ব্যাকআপ দিতে পারে। এমনকি যারা সারাদিন গেম খেলেন বা ভিডিও দেখেন, তাদের জন্যও এটি দেড় দিনের বেশি ব্যাকআপ দেবে। ইনফিনিক্সের দাবি অনুযায়ী, এতে ৫৩ ঘণ্টা টকটাইম এবং ৫৫ দিন পর্যন্ত স্ট্যান্ডবাই টাইম পাওয়া যাবে।
তবে ব্যাটারি বিশাল হওয়ার একটি বড় সমস্যা হলো চার্জিং সময়। বক্সে দেওয়া ১০ ওয়াটের সাধারণ চার্জার দিয়ে এই ৬০০০ এমএএইচ ব্যাটারি পূর্ণ চার্জ করতে প্রায় ৩ থেকে ৩.৫ ঘণ্টা সময় লাগে। এছাড়া এতে চার্জিং পোর্ট হিসেবে মাইক্রো ইউএসবি ব্যবহার করা হয়েছে, যা বর্তমান টাইপ-সি এর যুগে বেশ পুরনো প্রযুক্তি মনে হয়। ফাস্ট চার্জিং না থাকাটা অনেক ব্যবহারকারীর জন্য ধৈর্যের পরীক্ষা হতে পারে।
অডিও ও অন্যান্য সাউন্ড কোয়ালিটির জন্য এতে একটি সিঙ্গেল স্পিকার ব্যবহার করা হয়েছে যা ফোনের নিচের অংশে অবস্থিত। স্পিকারের সাউন্ড বেশ লাউড, তবে হাই ভলিউমে সাউন্ড কিছুটা ফেটে যেতে পারে বা নয়েজ শোনা যেতে পারে। এতে ডিটিএস (DTS) সাউন্ড প্রসেসিং প্রযুক্তি রয়েছে, যা ইয়ারফোন ব্যবহারের সময় সাউন্ড কোয়ালিটি কিছুটা উন্নত করে। ৩.৫ মিমি হেডফোন জ্যাক থাকায় আপনি আপনার পছন্দের যেকোনো হেডফোন ব্যবহার করতে পারবেন। কানেক্টিভিটির জন্য এতে ডুয়েল ব্যান্ড ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ ৫.০ এবং জিপিএস সুবিধা রয়েছে। এফএম রেডিও চালানোর জন্য হেডফোন কানেক্ট করার প্রয়োজন হয় না, যা একটি ভালো দিক (কিছু মডেলে হেডফোন লাগে, তবে ইনফিনিক্সে সাধারণত বিল্ট-ইন থাকে)। ওটিজি সাপোর্ট থাকায় পেনড্রাইভ কানেক্ট করে ফাইল ট্রান্সফার বা মুভি দেখা যাবে।
নিরাপত্তা নিরাপত্তার জন্য ফোনের পেছনের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরটি বেশ দ্রুত এবং নির্ভুল। আঙুল ছোঁয়ানোর সাথে সাথেই ফোন আনলক হয়ে যায়। এছাড়া ফেস আনলক সুবিধাও রয়েছে, যা দিনের আলোতে ভালো কাজ করে। অন্ধকারে ফেস আনলক কাজ করতে কিছুটা সময় নিতে পারে বা স্ক্রিনের ব্রাইটনেস বাড়িয়ে ফেস ডিটেক্ট করে।
সব মিলিয়ে, Infinix Hot 10 Play তাদের জন্য একটি আদর্শ স্মার্টফোন যারা বাজেট স্বল্পতার মধ্যেও একটি বড় ডিসপ্লে এবং দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারির ফোন খুঁজছেন। এটি ফটোগ্রাফার বা হেভি ইউজারদের জন্য নয়, বরং সাধারণ ব্যবহারকারী, শিক্ষার্থী, অথবা যারা রাইড শেয়ারিং অ্যাপ ব্যবহার করেন তাদের জন্য এটি একটি পারফেক্ট চয়েস। ৬০০০ এমএএইচ ব্যাটারি এবং বিশাল ডিসপ্লে এই ফোনের প্রধান ইউএসপি, যা অন্যান্য কমতিগুলোকে অনেকটাই ঢেকে দেয়।