Infinix Smart 2 Pro
General & Launch
Network
Body
Display
Platform
Memory
Camera
Sound
Connectivity
Battery
Features
- কমপ্যাক্ট এবং হালকা ডিজাইন, এক হাতে ব্যবহারে সুবিধাজনক।
- এই বাজেটে ডুয়েল রিয়ার ক্যামেরা সেটআপ।
- ফেস আনলক এবং ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর উভয় সুবিধাই আছে।
- দিনের আলোতে ভালো ছবি তোলার ক্ষমতা।
- ডুয়েল সিম ৪জি সাপোর্ট।
- সেলফি ক্যামেরার সাথে ফ্ল্যাশলাইট সুবিধা।
- ব্যাটারি ক্যাপাসিটি বর্তমান মানের তুলনায় কম (৩০৫০ mAh)।
- চার্জিং গতি ধীর (মাইক্রো ইউএসবি)।
- ভারি গেম খেলা বা মাল্টিটাস্কিংয়ে ল্যাগ করে।
- ডিসপ্লের বেজেল কিছুটা চওড়া।
- অ্যান্ড্রয়েড ভার্সন অনেক পুরনো।
বিস্তারিত
Infinix Smart 2 Pro market price in Bangladesh is ৯,৪৯০ টাকা । ইনফিনিক্স তাদের স্মার্ট সিরিজের মাধ্যমে বাজেট সচেতন গ্রাহকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। বিশেষ করে যারা ১০ হাজার টাকার নিচে একটি নির্ভরযোগ্য এবং স্টাইলিশ স্মার্টফোন খুঁজছেন, তাদের জন্যই মূলত এই ডিভাইসটি বাজারে আনা হয়েছিল।
ইনফিনিক্স স্মার্ট ২ প্রো তার সময়ের অন্যতম সেরা এন্ট্রি লেভেল স্মার্টফোন হিসেবে বিবেচিত। আজকের এই রিভিউতে আমরা এই ফোনটির ডিজাইন, ডিসপ্লে, পারফর্মেন্স, ক্যামেরা এবং ব্যাটারি লাইফ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। যদিও বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে এর স্পেসিফিকেশন কিছুটা সাধারণ মনে হতে পারে, তবুও সাধারণ ব্যবহারের জন্য এটি কতটুকু কার্যকর তা যাচাই করা যাক।
ডিজাইন ও বিল্ড কোয়ালিটি Infinix Smart 2 Pro এর ডিজাইন বেশ কমপ্যাক্ট এবং ছিমছাম। বর্তমানের বিশাল আকৃতির ফোনগুলোর ভিড়ে এই ৫.৫ ইঞ্চির ফোনটি হাতে ধরলে বেশ আরামদায়ক মনে হয়। এর পেছনের প্যানেলটি পলিকার্বোনেট বা উন্নত মানের প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি, যাতে মেটালিক ফিনিশ দেওয়া হয়েছে। এই ফিনিশের কারণে ফোনটি দেখতে কিছুটা প্রিমিয়াম লাগে এবং হাতে পিচ্ছিল ভাব কম থাকে।
ফোনটির পেছনের অংশে ডুয়েল ক্যামেরা সেটআপ এবং ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরটি খুব সুন্দরভাবে বসানো হয়েছে। ইনফিনিক্সের ব্র্যান্ডিংটি নিচের দিকে রাখা হয়েছে যা দেখতে বেশ মার্জিত। এর কার্ভড এজ বা বাঁকানো ধারের কারণে এটি গ্রিপ করা খুবই সহজ। ডান পাশে পাওয়ার বাটন এবং ভলিউম রকার রয়েছে, যা এক হাতে ব্যবহারের জন্য সুবিধাজনক অবস্থানে দেওয়া হয়েছে। ফোনটি ওজনে বেশ হালকা, তাই দীর্ঘক্ষণ কথা বলা বা ব্যবহারের ক্ষেত্রে হাতে কোনো চাপ অনুভূত হয় না। বিল্ড কোয়ালিটি প্লাস্টিকের হলেও এটি বেশ মজবুত এবং টেকসই মনে হয়। চারটি ভিন্ন রঙে—কালো, সোনালী, লাল এবং নীল—এই ফোনটি বাজারে পাওয়া যায়, যা ব্যবহারকারীদের নিজস্ব পছন্দ অনুযায়ী বেছে নেওয়ার সুযোগ দেয়।
ডিসপ্লে ও ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা ডিভাইসটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ৫.৫ ইঞ্চির আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লে। এটি একটি এইচডি প্লাস (৭২০ x ১৪৪০ পিক্সেল) রেজোলিউশনের ডিসপ্লে। ১৮:৯ অ্যাসপেক্ট রেশিও থাকার কারণে ফোনটি লম্বায় কিছুটা বড় এবং চওড়ায় কম, যা ভিডিও দেখা বা গেম খেলার সময় ভালো ভিউইং অভিজ্ঞতা প্রদান করে।
যদিও বর্তমানের ফুল ভিউ বা পাঞ্চ-হোল ডিসপ্লের মতো এটি নয় এবং এর ওপরে ও নিচে কিছুটা চওড়া বেজেল রয়েছে, তবুও এই বাজেটের ফোন হিসেবে ডিসপ্লের মান বেশ সন্তোষজনক। কালার রিপ্রোডাকশন এবং ব্রাইটনেস লেভেল ইনডোর ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত।
সাধারণ ইউটিউব ভিডিও দেখা, ফেসবুকে স্ক্রলিং করা বা ছবি দেখার জন্য ডিসপ্লেটি যথেষ্ট শার্প। ৫০০ নিটসের মতো ব্রাইটনেস থাকায় দিনের আলোতেও লেখা পড়তে খুব একটা সমস্যা হয় না। টাচ রেসপন্স এন্ট্রি লেভেল ফোন হিসেবে গ্রহণযোগ্য এবং মাল্টি-টাচ সাপোর্ট করে।
পারফর্মেন্স ও হার্ডওয়্যার Infinix Smart 2 Pro এর পারফর্মেন্স সেকশনে রয়েছে মিডিয়াটেক এমটি৬৭৩৯ (MediaTek MT6739) কোয়াড-কোর প্রসেসর। এটি ১.৩ গিগাহার্টজ ক্লক স্পিডে চলে। গ্রাফিক্সের জন্য এতে ব্যবহার করা হয়েছে পাওয়ার ভিআর জিই৮১০০ জিপিউ। মেমোরির ক্ষেত্রে ফোনটিতে ২ জিবি এবং ৩ জিবি র্যামের দুটি ভেরিয়েন্ট রয়েছে।
স্টোরেজ হিসেবে ১৬ জিবি এবং ৩২ জিবি অপশন পাওয়া যাবে, যা মাইক্রো এসডি কার্ডের মাধ্যমে ১২৮ জিবি পর্যন্ত বাড়িয়ে নেওয়া সম্ভব। দৈনন্দিন সাধারণ কাজ যেমন—কল করা, মেসেজিং, হোয়াটসঅ্যাপ বা ইমো ব্যবহার এবং হালকা ওয়েব ব্রাউজিংয়ের জন্য এই কনফিগারেশনটি যথেষ্ট।
তবে এটি কোনো গেমিং ডিভাইস নয়। ক্যান্ডি ক্রাশ, সাবওয়ে সার্ফার বা টেম্পল রানের মতো হালকা গেমগুলো এতে খেলা গেলেও পাবজি বা ফ্রি ফায়ারের মতো ভারি গেম খেলতে গেলে ল্যাগ বা ফ্রেম ড্রপ দেখা দিতে পারে। মাল্টিটাস্কিংয়ের সময় একসাথে অনেকগুলো অ্যাপ ওপেন থাকলে ফোনটি কিছুটা ধীরগতির হতে পারে, যা এই বাজেটের হার্ডওয়্যারে স্বাভাবিক।
ক্যামেরা সেকশন এই ফোনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো এর ক্যামেরা। পেছনের দিকে রয়েছে ১৩ মেগাপিক্সেল এবং ২ মেগাপিক্সেলের ডুয়েল ক্যামেরা সেটআপ। ১৩ মেগাপিক্সেলের প্রধান লেন্সটি দিয়ে দিনের আলোতে বেশ পরিষ্কার এবং ডিটেইলড ছবি তোলা সম্ভব। ২ মেগাপিক্সেলের সেকেন্ডারি লেন্সটি মূলত পোর্ট্রেট মোড বা বোকেহ ইফেক্টের জন্য কাজ করে।
এটি দিয়ে ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার করে সুন্দর পোর্ট্রেট শট নেওয়া যায়, যা এই দামের ফোনে একটি বড় সুবিধা। কম আলোতে ছবি তোলার জন্য ডুয়েল এলইডি ফ্ল্যাশ রয়েছে, যা কিছুটা নয়েজ কমাতেও সাহায্য করে। সেলফি প্রেমীদের জন্য সামনে রয়েছে ৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা।
এর সাথেও একটি ফ্ল্যাশলাইট দেওয়া হয়েছে, যাকে ইনফিনিক্স “লো লাইট সেলফি” ফিচার হিসেবে প্রচার করে। এই ফ্ল্যাশের কারণে অন্ধকারেও মোটামুটি উজ্জ্বল সেলফি তোলা যায়। ভিডিওর ক্ষেত্রে এটি ১০৮০পি রেজোলিউশনে ভিডিও রেকর্ড করতে সক্ষম। ভিডিও কোয়ালিটি সাধারণ মানের, তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করার জন্য যথেষ্ট।
সফটওয়্যার ও ইউজার ইন্টারফেস Infinix Smart 2 Pro অ্যান্ড্রয়েড ৮.১ (ওরিও) অপারেটিং সিস্টেমে চলে। এর ওপর ইনফিনিক্সের নিজস্ব কাস্টম স্কিন এক্সওএস (XOS) হামিংবার্ড ব্যবহার করা হয়েছে। এই ইন্টারফেসে বেশ কিছু কাস্টমাইজেশন ফিচার রয়েছে। যেমন—থিম পরিবর্তন, ফন্ট স্টাইল চেঞ্জ, এবং জেশ্চার কন্ট্রোল।
এছাড়াও এতে “ফ্রিজার” নামে একটি ফিচার আছে যা অব্যবহৃত অ্যাপগুলোকে ব্যাকগ্রাউন্ডে চলা থেকে বিরত রাখে, ফলে র্যাম ফ্রি থাকে। তবে ফোনে কিছু প্রি-ইনস্টল করা অ্যাপ বা ব্লোটওয়্যার থাকে, যা মাঝেমধ্যে অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন পাঠাতে পারে। তবে সফটওয়্যারটি বেশ হালকা এবং এন্ট্রি লেভেল হার্ডওয়্যারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ব্যাটারি ও চার্জিং ফোনটিতে রয়েছে ৩০৫০ এমএএইচ (Li-Ion) ব্যাটারি। বর্তমানের ৫০০০ এমএএইচ ব্যাটারির যুগের তুলনায় এটি কম মনে হতে পারে, কিন্তু ৫.৫ ইঞ্চির ছোট ডিসপ্লে এবং কম পাওয়ারের প্রসেসর হওয়ার কারণে এটি বেশ ভালো ব্যাকআপ দেয়।
সাধারণ ব্যবহারে এটি অনায়াসেই এক দিন পার করে দিতে পারে। টানা ইন্টারনেট ব্যবহার বা ভিডিও দেখলে ৫-৬ ঘণ্টা স্ক্রিন অন টাইম পাওয়া যেতে পারে। চার্জিংয়ের জন্য এতে মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট ব্যবহার করা হয়েছে। বক্সে থাকা সাধারণ ১০ ওয়াটের চার্জার দিয়ে ফোনটি সম্পূর্ণ চার্জ হতে প্রায় ২ থেকে আড়াই ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। ফাস্ট চার্জিং সুবিধা না থাকাটা এই বাজেটে মেনে নেওয়া যায়।
নিরাপত্তা ও অন্যান্য নিরাপত্তার জন্য ফোনের পেছনে একটি ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর রয়েছে যা বেশ দ্রুত কাজ করে। এছাড়া এতে ফেস আনলক বা ফেস আই ডি (Face ID) ফিচার রয়েছে। ইনফিনিক্স দাবি করে যে এটি ১০২৪টি ফেস পয়েন্ট শনাক্ত করতে পারে, যা এই বাজেটের ফোনে একটি প্রিমিয়াম ফিচার ছিল। ফেস আনলক দিনের আলোতে খুব দ্রুত কাজ করে, তবে অন্ধকারে ফ্ল্যাশলাইটের সাহায্য ছাড়া কিছুটা সময় নিতে পারে।
কানেক্টিভিটির জন্য এতে ডুয়েল সিম ৪জি সাপোর্ট, ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ ৪.২ এবং জিপিএস সুবিধা রয়েছে। ৩.৫ মিমি হেডফোন জ্যাক থাকায় গান শোনার জন্য আলাদা কনভার্টারের প্রয়োজন নেই। লাউডস্পিকারের সাউন্ড কোয়ালিটি গড়পড়তা, খুব বেশি জোরালো না হলেও স্পষ্ট।
সব মিলিয়ে, Infinix Smart 2 Pro তাদের জন্য একটি ভালো অপশন ছিল যারা খুব কম বাজেটে ডুয়েল ক্যামেরা এবং ফেস আনলকের মতো ফিচার চেয়েছিলেন। বর্তমান সময়ে এটি হয়তো কিছুটা পুরনো মনে হতে পারে, কিন্তু সেকেন্ডারি ফোন হিসেবে বা বয়স্কদের জন্য বা শিশুদের প্রথম স্মার্টফোন হিসেবে এটি এখনো ব্যবহারের উপযোগী। এর কমপ্যাক্ট সাইজ এবং সলিড বিল্ড কোয়ালিটি একে দীর্ঘস্থায়ী ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত করে তুলেছে।