Infinix Note 40X 5G
General & Launch
Network
Body
Display
Platform
Memory
Camera
Sound
Connectivity
Battery
Features
- সাশ্রয়ী মূল্যে ৫জি কানেক্টিভিটি।
- ১০৮ মেগাপিক্সেলের শক্তিশালী মেইন ক্যামেরা।
- ২৫৬ জিবি বিশাল ইন্টারনাল স্টোরেজ (বেইজ ভেরিয়েন্ট)।
- ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট সহ বড় ডিসপ্লে।
- ডুয়েল স্টেরিও স্পিকার (DTS সাউন্ড)।
- আধুনিক এবং আইফোন সদৃশ ক্যামেরা ডিজাইন।
- ৫০০০ এমএএইচ এর ভালো ব্যাটারি ব্যাকআপ।
- চার্জিং গতি বেশ ধীর (১৮ ওয়াট)।
- অ্যামোলেড ডিসপ্লে নেই (আইপিএস এলসিডি)।
- আল্ট্রা-ওয়াইড ক্যামেরা লেন্স নেই।
- সেলফি ক্যামেরা মাত্র ৮ মেগাপিক্সেল।
- সিস্টেমে ব্লোটওয়্যার বা অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের উপস্থিতি।
বিস্তারিত
Infinix Note 40X 5G market price in Bangladesh is ১৮,৯৯৯ টাকা (অফিসিয়াল, ৮/২৫৬ জিবি)। বাংলাদেশের স্মার্টফোন বাজারে ইনফিনিক্স তাদের নোট ৪০ সিরিজের ব্যাপক সাফল্যের পর এই সিরিজের একটি সাশ্রয়ী ৫জি সংস্করণ হিসেবে নোট ৪০এক্স বাজারে এনেছে। নোট ৪০ এবং নোট ৪০ প্রো মডেলগুলো যখন ডিজাইন এবং চার্জিং প্রযুক্তিতে বিপ্লব ঘটাচ্ছিল, তখন একটি বড় অংশের গ্রাহক ৫জি কানেক্টিভিটির অভাব বোধ করছিলেন।
সেই শূন্যস্থান পূরণ করতেই মূলত ইনফিনিক্স নোট ৪০এক্স ৫জি-এর আবির্ভাব। তবে এই ফোনটি কেবল একটি ৫জি ডিভাইস নয়, বরং এটি ইনফিনিক্সের সেই চিরাচরিত কৌশলের অংশ যেখানে কম দামে বেশি ফিচার দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। আজকের এই পর্যালোচনায় আমরা দেখব ১৮-১৯ হাজার টাকা বাজেটে এই ফোনটি আসলে কতটা ভ্যালু ফর মানি প্রদান করে এবং নোট ৪০ সিরিজের অন্যান্য ফোনের সাথে এর পার্থক্য কোথায়।
ডিজাইন ও বিল্ড কোয়ালিটি Infinix Note 40X 5G এর ডিজাইন ল্যাঙ্গুয়েজ তার বড় ভাইদের (Note 40/Pro) চেয়ে কিছুটা আলাদা। ইনফিনিক্স এবার তাদের নিজস্ব সিগনেচার ডিজাইনের পরিবর্তে অনেকটা অ্যাপলের আইফোন প্রো মডেলগুলোর ক্যামেরা মডিউলের আদলে এর ডিজাইন করেছে। পেছনের ক্যামেরা আইল্যান্ডটি স্কয়ার শেপের এবং লেন্সগুলোর বিন্যাস হুবহু আইফোনের মতো, যা সাধারণ ব্যবহারকারীদের মাঝে বেশ কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। ফোনটির পেছনের প্যানেলটি পলিকার্বোনেট বা প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি, তবে এর ওপর একটি গ্লসি ফিনিশ দেওয়া হয়েছে।
এই গ্লসি ফিনিশ ফোনটিকে দেখতে বেশ প্রিমিয়াম এবং চকচকে করে তুললেও এটি আঙুলের ছাপের চুম্বক হিসেবে কাজ করে। তাই বক্সের সাথে দেওয়া কভারটি ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। ফোনটির ফ্রেম ফ্ল্যাট এবং শার্প এজ বিশিষ্ট, যা হাতে ধরলে একটি সলিড গ্রিপ দেয়। ডান পাশে ভলিউম রকার এবং পাওয়ার বাটন রয়েছে। পাওয়ার বাটনটি একই সাথে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর হিসেবে কাজ করে। নোট ৪০ সিরিজের অন্যান্য ফোনে ইন-ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট থাকলেও বাজেট কমাতে এখানে সাইড মাউন্টেড সেন্সর দেওয়া হয়েছে, যা বেশ ফাস্ট এবং নির্ভুল।
নিচের অংশে টাইপ-সি পোর্ট, স্পিকার গ্রিল এবং ৩.৫ মিমি হেডফোন জ্যাক রয়েছে। উল্লেখ্য, এই ফোনে ডুয়েল স্টেরিও স্পিকার ব্যবহার করা হয়েছে, যা এই বাজেটে একটি বড় প্লাস পয়েন্ট। ফোনটির ওজন প্রায় ২০১ গ্রাম, যা হাতে নিলে কিছুটা ভারি মনে হতে পারে, তবে বিল্ড কোয়ালিটি বেশ মজবুত।
ডিসপ্লে ও ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা ডিসপ্লে সেগমেন্টে ইনফিনিক্স নোট ৪০এক্স ৫জি-তে একটি মিশ্র অনুভূতি পাওয়া যায়। নোট ৪০ সিরিজের মূল আকর্ষণ ছিল তাদের বেজেল-লেস অ্যামোলেড ডিসপ্লে, কিন্তু খরচ কমাতে এবং ৫জি চিপসেট দিতে গিয়ে এই ফোনে আইপিএস এলসিডি প্যানেল ব্যবহার করা হয়েছে। এতে রয়েছে ৬.৭৮ ইঞ্চির এফএইচডি প্লাস (FHD+) আইপিএস ডিসপ্লে। যদিও এটি অ্যামোলেড নয়, তবুও ডিসপ্লের কালার গ্রেডিং এবং শার্পনেস বেশ ভালো।
এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট। এই উচ্চ রিফ্রেশ রেট থাকার কারণে স্ক্রলিং এবং ইউজার ইন্টারফেসের অ্যানিমেশনগুলো অত্যন্ত মসৃণ মনে হয়। ডিসপ্লের ব্রাইটনেস ৫০০ নিটস, যা ঘরের ভেতরে ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত হলেও কড়া রোদে আউটডোর ভিজিবিলিটি কিছুটা কম মনে হতে পারে। ডিসপ্লের ওপরের দিকে মাঝখানে একটি পাঞ্চ-হোল কাটআউট রয়েছে। ইনফিনিক্স তাদের জনপ্রিয় “ম্যাজিক রিং” ফিচারটি এখানেও যুক্ত করেছে।
এটি আইফোনের ডায়নামিক আইল্যাল্ডের মতো কাজ করে; ফেস আনলক, চার্জিং স্ট্যাটাস বা ব্যাকগ্রাউন্ড কলের সময় নচের আশেপাশে একটি সুন্দর অ্যানিমেশন ভেসে ওঠে। এলসিডি প্যানেল হলেও এর ভিউইং অ্যাঙ্গেল এবং টাচ রেসপন্স সাধারণ ব্যবহারের জন্য সন্তোষজনক। ইউটিউব বা নেটফ্লিক্স দেখার সময় কালারগুলো বেশ পাচি এবং ডিটেইলড দেখায়, যদিও অ্যামোলেডের মতো গভীর কালো রং এখানে পাওয়া যাবে না।
পারফর্মেন্স ও হার্ডওয়্যার Infinix Note 40X 5G এর মূল চালিকাশক্তি হলো মিডিয়াটেক ডাইমেনসিটি ৬৩০০ (Dimensity 6300) চিপসেট। এটি ৬ ন্যানোমিটার আর্কিটেকচারে তৈরি একটি ৫জি প্রসেসর। ১৮-২০ হাজার টাকা বাজেটে এই প্রসেসরটি বর্তমানে বেশ জনপ্রিয় এবং নির্ভরযোগ্য। দৈনন্দিন কাজ যেমন—সোশ্যাল মিডিয়া ব্রাউজিং, মাল্টিটাস্কিং এবং অ্যাপ ওপেনিংয়ের ক্ষেত্রে ফোনটি কোনো ধরনের ল্যাগ ছাড়াই কাজ করে। এর সাথে রয়েছে ৮ জিবি বা ১২ জিবি র্যাম এবং ২৫৬ জিবি বিশাল ইন্টারনাল স্টোরেজ।
এই বাজেটে ২৫৬ জিবি স্টোরেজ দেওয়াটা ইনফিনিক্সের একটি দারুণ সিদ্ধান্ত, যা ব্যবহারকারীদের স্টোরেজ নিয়ে চিন্তা থেকে মুক্তি দেয়। মেমোরি ফিউশন প্রযুক্তির মাধ্যমে র্যাম আরও বাড়িয়ে নেওয়া সম্ভব। গেমিংয়ের ক্ষেত্রে, পাবজি বা ফ্রি ফায়ারের মতো গেমগুলো মিডিয়াম গ্রাফিক্স এবং হাই ফ্রেম রেটে খেলা সম্ভব। ডাইমেনসিটি ৬৩০০ খুব শক্তিশালী গেমিং চিপসেট না হলেও এটি বেশ ঠান্ডা থাকে এবং ব্যাটারি সাশ্রয় করে।
দীর্ঘক্ষণ গেম খেললে ফোনের ক্যামেরা অংশের পাশে সামান্য উষ্ণতা অনুভব হতে পারে, তবে তা খুব একটা উদ্বেগজনক নয়। ইনফিনিক্সের এক্স-এরিনা গেম মোডটি গেমিং পারফর্মেন্স অপ্টিমাইজ করতে সহায়তা করে।
সফটওয়্যার ও ইউজার ইন্টারফেস ফোনটি অ্যান্ড্রয়েড ১৪ ভিত্তিক এক্সওএস ১৪ (XOS 14) ইন্টারফেসে চলে। ইনফিনিক্সের সফটওয়্যার আগের চেয়ে অনেক বেশি রিফাইন এবং আধুনিক হয়েছে। এক্সওএস ১৪-এ নতুন কন্ট্রোল সেন্টার, লক স্ক্রিন কাস্টমাইজেশন এবং ফোল্ডার ডিজাইনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতে বেশ কিছু এআই ফিচার রয়েছে, যেমন—এআই ওয়ালপেপার জেনারেটর এবং স্মার্ট চার্জিং।
তবে ইনফিনিক্সের সফটওয়্যারের চিরচেনা সমস্যা ‘ব্লোটওয়্যার’ বা অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ এই ফোনেও বিদ্যমান। ফোনটি সেটআপ করার সময় এবং ব্যবহারের সময় বেশ কিছু অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন আসতে পারে, যা ইউজার এক্সপেরিয়েন্সকে কিছুটা ব্যাহত করে। তবে ভালো দিক হলো, অনেকগুলো অ্যাপ আনইনস্টল বা ডিজেবল করার সুযোগ রয়েছে। ইনফিনিক্স সফটওয়্যার আপডেটের বিষয়ে এখন কিছুটা উন্নতি করছে, তাই আশা করা যায় ভবিষ্যতে নিরাপত্তা প্যাচগুলো নিয়মিত পাওয়া যাবে।
ক্যামেরা সেকশন ফটোগ্রাফির জন্য ফোনের পেছনে ট্রিপল ক্যামেরা সেটআপের মতো দেখালেও মূলত এটি ১০৮ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরার ওপর নির্ভরশীল। সাথে দুটি ২ মেগাপিক্সেলের ডামি বা অক্সিলারি লেন্স রয়েছে যা খুব একটা কাজের নয়। ১০8 মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা দিয়ে দিনের পর্যাপ্ত আলোতে বেশ ভালো ছবি তোলা যায়। ছবির ডিটেইলস এবং শার্পনেস এই বাজেটের ফোন হিসেবে প্রশংসনীয়।
ইনফিনিক্সের কালার সায়েন্স ছবিগুলোকে কিছুটা বুস্ট করে, ফলে ছবিগুলো দেখতে বেশ জীবন্ত এবং সোশ্যাল মিডিয়া রেডি মনে হয়। ৩-গুণ ইন-সেন্সর জুম থাকার কারণে জুম করলেও ছবির ডিটেইলস খুব একটা নষ্ট হয় না। তবে এই ফোনে কোনো আল্ট্রা-ওয়াইড লেন্স নেই, যা ল্যান্ডস্কেপ ফটোগ্রাফির জন্য একটি বড় অভাব। রাতে ছবি তোলার জন্য “সুপার নাইট মোড” রয়েছে, যা নয়েজ কমিয়ে ছবিকে উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে, তবে ফোকাস করতে কিছুটা সময় নেয়।
সেলফি তোলার জন্য সামনে রয়েছে ৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা। পেছনের ক্যামেরার তুলনায় সামনের ক্যামেরাটি কিছুটা দুর্বল মনে হতে পারে। তবে সামনে ডুয়েল ফ্ল্যাশলাইট থাকার কারণে অন্ধকারেও ভিডিও কল বা সেলফি তোলা সম্ভব। ভিডিও রেকর্ডিংয়ের ক্ষেত্রে এটি ২কে (1440p) রেজোলিউশনে ৩০ এফপিএস এবং ১০৮০পি রেজোলিউশনে ৬০ এফপিএস ভিডিও রেকর্ড করতে সক্ষম। ভিডিওতে স্ট্যাবিলাইজেশনের অভাব থাকলেও সাধারণ ব্যবহারের জন্য এটি ঠিক আছে।
ব্যাটারি ও চার্জিং Infinix Note 40X 5G তে রয়েছে ৫০০০ এমএএইচ এর ব্যাটারি। ৬ ন্যানোমিটার প্রসেসর এবং এলসিডি ডিসপ্লে হওয়ার কারণে ব্যাটারি ব্যাকআপ বেশ ভালো। সাধারণ ব্যবহারে এক চার্জে অনায়াসেই দেড় দিন পার করে দেওয়া সম্ভব। এমনকি হেভি ইউজারদের জন্যও এটি সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ব্যাকআপ দেবে। তবে চার্জিং সেকশনে ইনফিনিক্স কিছুটা পিছিয়ে আছে।
নোট ৪০ সিরিজের অন্যান্য ফোনে যেখানে ৪৫ ওয়াট বা ৭০ ওয়াট চার্জিং দেওয়া হয়েছে, সেখানে নোট ৪০এক্স-এ মাত্র ১৮ ওয়াটের ফাস্ট চার্জিং দেওয়া হয়েছে। ৫০০০ এমএএইচ ব্যাটারি ১৮ ওয়াট দিয়ে চার্জ হতে প্রায় ২ ঘণ্টা ১০ মিনিটের মতো সময় নেয়, যা বর্তমান ফাস্ট চার্জিংয়ের যুগে বেশ ধীরগতির। টাইপ-সি পোর্ট থাকায় চার্জিং ক্যাবল নিয়ে সমস্যা হবে না, কিন্তু চার্জিং স্পিডটি আরও ভালো হতে পারত।
অডিও ও অন্যান্য সাউন্ড কোয়ালিটির জন্য এতে ডুয়েল স্টেরিও স্পিকার ব্যবহার করা হয়েছে, যা ডিটিএস (DTS) সাউন্ড সাপোর্ট করে। স্পিকারের সাউন্ড বেশ লাউড এবং ক্লিয়ার। গেম খেলা বা মুভি দেখার সময় স্টেরিও ইফেক্ট বেশ উপভোগ্য। ৩.৫ মিমি জ্যাক থাকায় আপনি আপনার পছন্দের ইয়ারফোন ব্যবহার করতে পারবেন। কানেক্টিভিটির জন্য এতে ৫জি সাপোর্ট, ডুয়েল ব্যান্ড ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ এবং জিপিএস সুবিধা রয়েছে। এনএফসি সুবিধাও এই ফোনে রয়েছে, যা কন্টাক্টলেস পেমেন্ট বা ডেটা শেয়ারিংয়ের জন্য উপকারী। কল কোয়ালিটি বেশ পরিষ্কার এবং নেটওয়ার্ক রিসিপশন শক্তিশালী।
সব মিলিয়ে, Infinix Note 40X 5G তাদের জন্য একটি আদর্শ ফোন যারা ১৮-১৯ হাজার টাকার মধ্যে একটি ৫জি ফোন খুঁজছেন এবং যাদের কাছে স্টোরেজ ও ডিজাইন গুরুত্বপূর্ণ। যদিও এলসিডি ডিসপ্লে এবং ধীরগতির চার্জিং কিছুটা নেতিবাচক দিক, তবুও ২৫৬ জিবি স্টোরেজ, ১০৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা এবং ডুয়েল স্পিকার সেই ঘাটতি অনেকটাই পূরণ করে দেয়। বিশেষ করে যারা নোট ৪০ সিরিজের ডিজাইন পছন্দ করেন কিন্তু বাজেট এবং ৫জি-র কারণে প্রো মডেলটি কিনতে পারছেন না, তাদের জন্য এটি একটি ভালো বিকল্প।