Infinix Smart 8 Pro
General & Launch
Network
Body
Display
Platform
Memory
Camera
Sound
Connectivity
Battery
Features
- ৫০ মেগাপিক্সেলের উন্নত মেইন ক্যামেরা।
- ৯০ হার্টজ স্মুথ রিফ্রেশ রেট।
- ৫০০০ mAh বিশাল ব্যাটারি।
- প্রিমিয়াম ডিজাইন ও ম্যাজিক রিং ফিচার।
- ইউএসবি টাইপ-সি পোর্ট সুবিধা।
- ডেডিকেটেড মেমোরি কার্ড স্লট।
- গেমিংয়ের জন্য চিপসেটটি দুর্বল।
- ডিসপ্লের রেজোলিউশন মাত্র ৭২০পি।
- ভিডিও স্ট্যাবিলাইজেশনের অভাব।
- বক্সের সাথে কভার নাও থাকতে পারে।
বিস্তারিত
Infinix Smart 8 Pro market price in Bangladesh is ১১,৪৯৯ টাকা । স্মার্টফোনের বাজারে ইনফিনিক্স সবসময়েই বাজেট সচেতন গ্রাহকদের পছন্দের শীর্ষে থাকার চেষ্টা করে। বিশেষ করে ১২ হাজার টাকার নিচে যারা ভালো দেখতে এবং মোটামুটি ভালো স্পেসিফিকেশনের ফোন খুঁজছেন, তাদের জন্যই এই “প্রো” সংস্করণটি বাজারে আনা হয়েছে। রেগুলার স্মার্ট ৮ এর সাথে এর মূল পার্থক্যটি মূলত ক্যামেরা সেকশনে। চলুন ডিভাইসটির প্রতিটি দিক, বিল্ড কোয়ালিটি থেকে শুরু করে পারফরম্যান্স পর্যন্ত গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা যাক।
ডিজাইন এবং বিল্ড কোয়ালিটি ইনফিনিক্স স্মার্ট ৮ প্রো এর ডিজাইন ল্যাঙ্গুয়েজ বর্তমান সময়ের ট্রেন্ডকে পুরোপুরি অনুসরণ করে। ফোনটি দেখতে অনেকটাই বক্সি বা ফ্ল্যাট ডিজাইনের, যা আইফোন ১৪ বা ১৫ প্রো সিরিজের কথা মনে করিয়ে দেয়। এর ব্যাক প্যানেলে ব্যবহার করা হয়েছে ভাইব্রেন্ট গ্লো টেক্সচার, যা আলোর নিচে ধরলে সুন্দর একটি রেইনবো বা শাইনি ইফেক্ট দেয়।
প্লাস্টিক বডি হওয়া সত্ত্বেও এর ফিনিশিং বেশ প্রিমিয়াম এবং হাতে ধরলে সস্তা মনে হয় না। ক্যামেরা মডিউলটি বেশ বড় এবং সেখানে “ম্যাজিক রিং” বা ফ্ল্যাশ লাইটের ডিজাইনটি বেশ ইউনিক। ফোনটির ওজন ১৮৯ গ্রাম এবং পুরুত্ব ৮.৫ মিলিমিটার, যা খুব বেশি ভারী বা খুব হালকা—কোনোটাই নয়। একহাতে ব্যবহারের জন্য এটি বেশ কমপ্যাক্ট এবং গ্রিপ বেশ ভালো। ডানপাশে পাওয়ার বাটনের সাথেই ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর দেওয়া হয়েছে, যা বেশ ফাস্ট এবং একুরেট।
ডিসপ্লে এবং ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা এই বাজেটে সাধারণত সাধারণ ৬০ হার্টজের ডিসপ্লে দেখা যায়, কিন্তু ইনফিনিক্স এখানে ৬.৬ ইঞ্চির একটি ৯০ হার্টজ রিফ্রেশ রেটের আইপিএস এলসিডি প্যানেল ব্যবহার করেছে। ৭২০ x ১৬১২ পিক্সেলের এইচডি প্লাস রেজোলিউশন হলেও ৯০ হার্টজ থাকার কারণে টাচ রেসপন্স এবং স্ক্রলিং বেশ মাখনের মতো স্মুথ মনে হয়।
ডিসপ্লের উজ্জ্বলতা ৫০০ নিটস পর্যন্ত, যা ঘরের ভেতরে বা ছায়ায় ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট, তবে কড়া রোদে টেক্সট পড়তে কিছুটা বেগ পেতে হতে পারে। বেজেলগুলো মোটামুটি চিকন হলেও নিচের দিকের চিবুক বা চিন কিছুটা মোটা, যা এই বাজেটের ফোনে স্বাভাবিক। পাঞ্চ-হোল কাটআউটের ব্যবহার ফোনটিকে আধুনিক লুক দিয়েছে। এখানে ইনফিনিক্সের সিগনেচার “ম্যাজিক রিং” ফিচার রয়েছে, যা চার্জিং বা ফেস আনলকের সময় নচ এরিয়াতে একটি পপ-আপ অ্যানিমেশন দেখায়। এটি খুব একটা ফাংশনাল না হলেও দেখতে বেশ কুল।
ক্যামেরা সেকশন: প্রধান আকর্ষণ স্মার্ট ৮ প্রো মডেলটিতে “প্রো” ট্যাগ লাগানোর মূল কারণ হলো এর ক্যামেরা। রেগুলার মডেলে ১৩ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা থাকলেও, প্রো মডেলে দেওয়া হয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের প্রাইমারি সেন্সর। এফ/১.৯ অ্যাপারচারের এই লেন্সটি দিনের আলোতে বেশ ভালো ছবি তুলতে সক্ষম। ছবিতে ডিটেইলস এবং কালার স্যাচুরেশন এই বাজেটের অন্যান্য ফোনের তুলনায় ভালো। বিশেষ করে যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি আপলোড করতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য ছবির কালার সায়েন্সটি পছন্দসই হবে। পোর্ট্রেট মোডে এজ ডিটেকশন মোটামুটি কাজ করে, তবে খুব জটিল ব্যাকগ্রাউন্ড হলে কিছুটা স্ট্রাগল করে।
লো-লাইটে বা রাতের আলোতে ছবির মান কিছুটা কমে যায় এবং নয়েজ দেখা যায়, তবে নাইট মোড ব্যবহার করলে কিছুটা উন্নতি লক্ষ্য করা যায়। সামনে রয়েছে ৮ মেগাপিক্সেলের সেলফি ক্যামেরা। সাথে একটি ফ্রন্ট ফ্ল্যাশও আছে যা অন্ধকারে সেলফি তুলতে সাহায্য করে। সেলফিগুলোতে স্কিন টোন কিছুটা সফট করে দেয়, যা বিউটি মোড লাভারদের ভালো লাগবে। ভিডিওর ক্ষেত্রে সামনে এবং পেছনে উভয় ক্যামেরা দিয়েই ১০৮০পি ৩০ এফপিএস-এ ভিডিও করা যায়। তবে কোনো ধরনের স্ট্যাবিলাইজেশন না থাকায় হাঁটতে হাঁটতে ভিডিও করলে ফুটেজ বেশ কাঁপে।
পারফরম্যান্স এবং হার্ডওয়্যার ফোনের পারফরম্যান্স সেকশনে কিছুটা মিশ্র অনুভূতি রয়েছে। এতে ব্যবহার করা হয়েছে মিডিয়াটেক হেলিও জি৩৬ চিপসেট। এটি একটি ১২ ন্যানোমিটারের অক্টা-কোর প্রসেসর। সত্যি বলতে, এটি একটি এন্ট্রি লেভেল প্রসেসর এবং খুব শক্তিশালী কিছু নয়। সাধারণ কাজ যেমন—কল করা, ইউটিউব দেখা, ফেসবুকিং বা ওয়েব ব্রাউজিংয়ের জন্য এটি ঠিক আছে। কিন্তু আপনি যদি গেমার হন, তবে এই ফোনটি আপনার জন্য নয়। ফ্রি ফায়ার বা পাবজির মতো গেমগুলো লো সেটিংসে খেলা যাবে, কিন্তু বেশিক্ষণ খেললে বা মাল্টিটাস্কিং করলে ল্যাগ এবং ফ্রেম ড্রপ দেখা দিতে পারে। ৪ জিবি র্যামের সাথে ভার্চুয়াল র্যাম বাড়ানোর সুবিধা আছে, যা মাল্টিটাস্কিংয়ে সামান্য সাহায্য করে। অ্যাপ ওপেনিং স্পিড খুব একটা ফাস্ট নয়, তবে দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য সহনীয়।
সফটওয়্যার এবং ইউজার ইন্টারফেস ইনফিনিক্স স্মার্ট ৮ প্রো চলে অ্যান্ড্রয়েড ১৩ গো এডিশনের উপর ভিত্তি করে তৈরি XOS 13 এ। গো এডিশন হওয়ার কারণে অপারেটিং সিস্টেমটি বেশ হালকা এবং কম র্যামেও স্মুথলি চলার চেষ্টা করে। XOS এ প্রচুর কাস্টমাইজেশন অপশন রয়েছে। আপনি থিম, আইকন এবং বিভিন্ন জেসচার নিজের মতো করে সাজিয়ে নিতে পারবেন। তবে এর বড় সমস্যা হলো ব্লোটওয়্যার। ফোনটি কেনার পর বেশ কিছু অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ প্রি-ইনস্টল করা থাকে এবং মাঝে মাঝে সিস্টেম থেকে বিজ্ঞাপনের নোটিফিকেশন আসে যা বিরক্তিকর হতে পারে। তবে সেটিংস থেকে এগুলো কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
ব্যাটারি এবং চার্জিং ফোনটির অন্যতম শক্তিশালী দিক হলো এর ব্যাটারি। ৫০০০ এমএএইচ এর ব্যাটারি এবং কম পাওয়ারের প্রসেসর হওয়ার কারণে এর ব্যাকআপ দুর্দান্ত। একজন সাধারণ ব্যবহারকারী অনায়াসেই দেড় থেকে দুই দিন পার করে দিতে পারবেন এক চার্জে। এমনকি ভারী ব্যবহারেও এক দিন পার করা কঠিন হবে না। তবে চার্জিং স্পিড নিয়ে হতাশা রয়েছে। বক্সে মাত্র ১০ ওয়াটের চার্জার দেওয়া হয়েছে। ০ থেকে ১০০ শতাংশ চার্জ হতে প্রায় ৩ ঘণ্টার কাছাকাছি সময় লাগে। বর্তমান যুগে এটি বেশ ধীরগতি। তবে ভালো দিক হলো এতে ইউএসবি টাইপ-সি পোর্ট ব্যবহার করা হয়েছে, যা এই বাজেটে প্রশংসনীয়।
অডিও এবং অন্যান্য এতে সিঙ্গেল স্পিকার ব্যবহার করা হয়েছে। সাউন্ড কোয়ালিটি খুব লাউড না হলেও স্পষ্ট। ২০০% ভলিউম মোড আছে যা সাউন্ড বুস্ট করে, কিন্তু তাতে সাউন্ড কিছুটা ফেটে যেতে পারে। ৩.৫ মিমি হেডফোন জ্যাক থাকায় তারযুক্ত হেডফোন ব্যবহার করা যাবে। কল কোয়ালিটি এবং নেটওয়ার্ক রিসেপশন বেশ ভালো। ৪জি নেটওয়ার্কে ইন্টারনেট ব্রাউজিং এবং কলিংয়ে কোনো বড় সমস্যা পাওয়া যায়নি।
১০-১২ হাজার টাকা বাজেটে ইনফিনিক্স স্মার্ট ৮ প্রো একটি ভারসাম্যপূর্ণ প্যাকেজ। এটি মূলত তাদের জন্য যারা গেমিং করেন না কিন্তু ভালো ব্যাটারি, সুন্দর ডিজাইন এবং মোটামুটি ভালো ক্যামেরার একটি ফোন খুঁজছেন।
বিশেষ করে ৫০ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা এবং ৯০ হার্টজ ডিসপ্লে এই প্রাইস পয়েন্টে একে শক্তিশালী প্রতিযোগী করে তুলেছে। তবে চার্জিং স্পিড এবং প্রসেসর পারফরম্যান্সে কিছুটা ছাড় দিতে হবে। যদি আপনার অগ্রাধিকার হয় ক্যামেরা এবং স্টাইল, তবে এই ফোনটি আপনার তালিকার উপরের দিকেই থাকা উচিত। আর যদি পারফরম্যান্স বা গেমিং আপনার মূল লক্ষ্য হয়, তবে বাজেট বাড়িয়ে অন্য কোনো মডেল দেখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।