সাজেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ, ভোগান্তিতে পর্যটকরা

রাঙামাটির বাঘাইছড়ির জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে যাতায়াতের প্রধান সড়কে স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর অপসারণের দাবিতে রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ শুরু হয়েছে। সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ আহ্বানে এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই আকস্মিক অবরোধের ফলে পাহাড়ি জনপদে যাতায়াত ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়েছে এবং সাজেকে বেড়াতে যাওয়া শত শত পর্যটক চরম ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।

অবরোধের প্রথম দিনে দীঘিনালা সড়কের গঙ্গারাম উঁচাবাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করেন পিকেটাররা। এর ফলে সাজেক ও বাঘাইছড়ি থেকে দীঘিনালাগামী সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। তবে জরুরি সেবা যেমন—ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, মরদেহ বহনকারী গাড়ি, ওষুধ সরবরাহকারী যান, সংবাদপত্র বহনকারী গাড়ি এবং সংবাদকর্মীদের যানবাহন এই কর্মসূচির আওতামুক্ত রাখা হয়েছে বলে উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন।

এর আগে শনিবার (১০ অক্টোবর) সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা এবং সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমার স্বাক্ষর করা এক যৌথ বিবৃতিতে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সাজেকের উজোবাজার এলাকায় আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে প্রশাসনের প্রতি ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হওয়ায় বাধ্য হয়েই এই অনির্দিষ্টকালের সর্বাত্মক অবরোধের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সন্তু গ্রুপ নামের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে সাজেক এলাকায় অবস্থান নিয়ে সাধারণ বাসিন্দাদের প্রতিনিয়ত হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে, যা গোটা এলাকায় চরম অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করেছে। বিশেষ করে ২৯ সেপ্টেম্বর সাজেকের চাইল্যাতলী এলাকায় সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের গুলিতে কস্মিতা ত্রিপুরা নামের আট বছরের এক শিশু আহত হওয়ার ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে তারা দাবি করেন। অবিলম্বে ওই সশস্ত্র গোষ্ঠীকে এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়া, স্থানীয়দের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।

এদিকে হঠাৎ এই অবরোধের কারণে সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদ প্রত্যাভ্রমণ এবং নতুন পর্যটকদের প্রবেশ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সাজেক কটেজ মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা জানান, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আগের মতো দুই দফায় নয়, কেবল দুপুর ২টায় একবার বিশেষ স্কর্টে গাড়ি চলাচলের সম্ভাবনা রয়েছে। এই স্কর্টের মাধ্যমেই সাজেকে আটকে থাকা পর্যটকদের নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনা এবং নতুন পর্যটকদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

০%
০%
০%
০%