রংপুর জেলা স্কুল মাঠে আয়োজিত ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-টু-রংপুর লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম অভিযোগ করেছেন যে বিএনপি জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা দিয়েছেন যে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত ১১ দলের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
শনিবার রাতে অনুষ্ঠিত এই সমাপনী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অলি আহমদ বলেন, সরকার যেমন হ্যাঁ ভোট চেয়েছিল, তারাও হ্যাঁ ভোট চেয়েছিলেন। কিন্তু সরকার জনগণের সঙ্গে গাদ্দারি ও বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ১১ দল মীরজাফরের খাতায় নিজেদের নাম লেখাবে না।
গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে এলডিপি চেয়ারম্যান বলেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি একই সঙ্গে সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটে এ দেশের মানুষ ভোট দিয়েছে। প্রায় ৭০ শতাংশ ভোট নিয়ে গণভোটে হ্যাঁ ব্যালট বিপুল ব্যবধানে জয়যুক্ত হয়েছে। নির্বাচনের আগে রংপুরে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী জনগণের কাছে হ্যাঁ ভোট চেয়েছিলেন এবং সংবিধানে জুলাই সনদ অন্তর্ভুক্ত করার অঙ্গীকার করেছিলেন। কিন্তু সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ না করে শুধু সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার মাধ্যমে সরকার দেশ ও জাতির সঙ্গে নজিরবিহীন বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বর্তমান মন্ত্রিসভা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করে অলি আহমদ বলেন, তারা আশা করেছিলেন সরকারের পরিকল্পনা ভালো হবে, কিন্তু বর্তমান মন্ত্রিসভাকে তিনি বিএনপির পরিবর্তে ভারত ও হাসিনার মন্ত্রিসভা বলে অভিহিত করেন। দেশকে বাঁচাতে হলে ১১ দলীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বসে আলোচনা করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, গণভোটের রায় কার্যকর হলে প্রধানমন্ত্রীর হাতে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার সুযোগ থাকবে না, প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে দলীয়করণ করা যাবে না এবং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সম্পদ লুটপাটের সুযোগ কমে যাবে বলেই সরকার এই রায় কার্যকর করতে চাইছে না।
তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, সার সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিসহ সব সমস্যার সমাধান হিসেবে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এই রায় কার্যকরের জন্যই ঢাকা থেকে রংপুরে লংমার্চ করা হয়েছে। প্রয়োজনে আট দফার পরিবর্তে এক দফার ডাক দিয়ে ঢাকার দিকে লংমার্চ করার জন্যও তারা প্রস্তুত রয়েছেন বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন। সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন।