নভেম্বরে ঢাকা দিল্লি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বরফ গলতে পারে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর ঘিরে

ঢাকা। চলতি বছরের নভেম্বর মাসে ভারত সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘টাইমস নাউ’-এর একটি প্রতিবেদনে এই সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে। এই সম্ভাব্য সফরকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে পূর্বে স্থগিত হওয়া দ্বিপক্ষীয় আলোচনাগুলো পুনরায় শুরু হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।

শুক্রবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, সফরের প্রস্তুতি এবং দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগের অংশ হিসেবে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখে চলেছেন। এর অংশ হিসেবে গত আগস্ট মাসে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

আসন্ন এই সম্ভাব্য সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষা, অবৈধ অভিবাসন রোধ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির নবায়নসহ দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশেষ করে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির নবায়ন বর্তমানে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যকার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ৩০ বছর মেয়াদি এই গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে শেষ হতে চলেছে। যদিও বাংলাদেশের যৌথ নদী কমিশনের তথ্য অনুযায়ী চুক্তিটির মেয়াদ ২০২৬ সালে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পারস্পরিক স্বার্থ ও সমতার ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়ার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে ঢাকা। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সম্প্রতি ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে একতরফা নির্ভরতা বা ‘মোহ’ কাটিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বিভিন্ন চুক্তি পর্যালোচনার বিষয়েও সরকারের পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে সরকারের পতনের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নিলে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েনের সৃষ্টি হয়। এরপর থেকেই সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি ঢাকা ও নয়াদিল্লির সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

গত ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। রায়ের পর তাকে দেশে প্রত্যর্পণের জন্য ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানায় বাংলাদেশ সরকার। নয়াদিল্লি জানিয়েছে যে বাংলাদেশের এই অনুরোধটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট দেশের আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিষয়টি পরীক্ষা করা হচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের জুন মাসে ঢাকায় ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণকারী দীনেশ ত্রিবেদী দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক স্বাভাবিক ও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করেছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন মহলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।

০%
০%
০%
০%