AdvertisementAdvertisement

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিএনপির জরুরি বৈঠক, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফনের সিদ্ধান্ত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আজ দুপুর সাড়ে ১২টায় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক জরুরি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় জানানো হয়, আজ সকাল ৬টায় বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে দেশবাসী এক অপূরণীয় শূন্যতার মুখে পড়েছে। তাঁর মৃত্যু শুধু একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রীকে হারানো নয়, বরং বাংলাদেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সংগ্রামে এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের বিদায়।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বিএনপি স্থায়ী কমিটি মনে করে, এই বিয়োগবেদনা নিদারুণ এবং এই শূন্যতার ভার বহন করা জাতির জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। দীর্ঘ রোগভোগের সময়ে তাঁর সুস্থতার জন্য দেশবাসী যেমন মহান আল্লাহর কাছে নিরন্তর দোয়া করেছে, তেমনি তাঁর বিদায়ে বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনাতেও মানুষ আজ ক্লান্তিহীন।

সভায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি দেশবাসীর গভীর ভালোবাসা ও আবেগের জন্য স্থায়ী কমিটি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়—বেগম খালেদা জিয়াকে ভিআইপি মর্যাদা প্রদান, চিকিৎসায় সার্বিক সহায়তা, তাঁর সম্মানে রাষ্ট্রীয় শোক ও ছুটি ঘোষণার জন্য।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বৈঠকে বেগম খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও সুসংহত রাখার সংগ্রাম এবং রাষ্ট্র গঠনের প্রতিটি স্তরে তাঁর অসামান্য অবদানের স্মরণে একটি শোক প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করা হয়। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।

সভায় আরও জানানো হয়, জীবনের শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত দেশের বরেণ্য চিকিৎসকরা যেভাবে নিরলস সেবা দিয়েছেন, বিএনপি তা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছে।

সরকারিভাবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলে সভায় অবহিত করা হয়। বিএনপিও দলীয়ভাবে সরকারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সমন্বয় করে কর্মসূচি নির্ধারণ করেছে।

এর অংশ হিসেবে আগামীকাল (বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫) বাদ জোহর জাতীয় সংসদ ভবনের প্লাজায় বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। সম্ভাব্য বিপুল জনসমাগম বিবেচনায় মানিক মিয়া এভিনিউ, মিরপুর রোড ও ফার্মগেট এলাকায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখা হবে। জানাজা শেষে সংসদ এলাকার জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার কমপ্লেক্সে তাঁর দাফন সম্পন্ন হবে।

বিএনপি সকল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় সংযম, শৃঙ্খলা ও ভাবগাম্ভীর্য বজায় রাখার জন্য সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

দলীয়ভাবে আগামী সাত দিন শোক পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সময় দেশের মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

এ ছাড়া বিদেশি মিশন, দূতাবাস ও বিভিন্ন অফিসের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানোর সুবিধার্থে গুলশানের চেয়ারপার্সন কার্যালয় ও পল্টনস্থ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আজ থেকে পরবর্তী তিন দিন শোকবই খোলা থাকবে।

সভায় বলা হয়, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন এক আপসহীন প্রতীক। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মানুষের অধিকার, কল্যাণ ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় তিনি ছিলেন অবিচল। তাঁর বিদায়কে শক্তিতে পরিণত করে গণতন্ত্র ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার শপথে অবিচল থাকার আহ্বান জানিয়েই সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।


0%
0%
0%
0%