পলাতক দণ্ডিতদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে শহীদ পরিবারকে সহায়তার উদ্যোগ ট্রাইব্যুনালের

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিত পলাতক আসামিদের বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারগুলোর মাঝে বিতরণের এক যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, ট্রাইব্যুনালের বিচারিক ইতিহাসে এমন নজিরবিহীন উদ্যোগ এবারই প্রথম নেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই পরিকল্পনার কথা জানান।
আমিনুল ইসলাম বলেন, যেসব পলাতক আসামির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত বা অর্থদণ্ডের আদেশ রয়েছে, তা দ্রুত কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে ট্রাইব্যুনালের বিদ্যমান কার্যবিধিতে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা না থাকায় আন্তর্জাতিক আইন ও দেশের প্রচলিত আইনি বিধানসমূহ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আইনি জটিলতা নিরসনে দ্রুতই অগ্রগতি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পলাতক আসামিদের বিচারের বিষয়ে প্রধান কৌঁসুলি স্পষ্ট করেন যে, আইন অনুযায়ী আসামির অনুপস্থিতিতে বিচার চললেও তাকে গ্রেপ্তার বা আত্মসমর্পণের আগে রায় কার্যকর করা সম্ভব নয়। সরকারের পক্ষ থেকে পলাতক অপরাধীদের গ্রেপ্তারের জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং ট্রাইব্যুনাল থেকেও পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। কোনো আসামির অবস্থান সম্পর্কে তথ্য থাকলে তা প্রসিকিউশনকে জানানোর জন্য তিনি সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
জুলাই অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে সারা দেশ থেকে আসা ৫৯০টি অভিযোগের মধ্যে বাছাই করা ১০৯টি মামলার তদন্ত আগামী এক বছরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে প্রসিকিউশন। একই এলাকার বিভিন্ন ঘটনা পৃথকভাবে তদন্ত না করে সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা হবে, যা সময় সাশ্রয়ের পাশাপাশি বিচারিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে বলে তিনি জানান। যাত্রাবাড়ী, উত্তরা ও নরসিংদীর মতো অঞ্চলের মামলাগুলো এই প্রক্রিয়ায় আনা হবে।
জুলাই অভ্যুত্থানের মামলার পাশাপাশি গুম ও কথিত ক্রসফায়ারের ঘটনাগুলোকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। আমিনুল ইসলাম জানান, গত দেড় বছরে ছয়টি মামলার বিচার আন্তর্জাতিক মান ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে সম্পন্ন করা হয়েছে। তাড়াহুড়া করে বিচার প্রক্রিয়ার গুণমান নষ্ট না করার বিষয়েও তিনি সতর্ক অবস্থান ব্যক্ত করেন।
চলতি মাসেই গুরুত্বপূর্ণ তিনটি মামলার রায় ঘোষণার প্রক্রিয়া চলছে। এর মধ্যে ওবায়দুল কাদেরের মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি চলমান রয়েছে এবং মাহবুবউল আলম হানিফের মামলার যুক্তিতর্ক সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়াও তাইম ভূঁইয়া হত্যা মামলায় দ্রুতই যুক্তিতর্ক শুরু হবে এবং জিয়াউল আহসানের মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে প্রসিকিউশন জানিয়েছে। এই বিচার প্রক্রিয়াগুলো বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পথে একটি মাইলফলক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
