গৌরীপুরে ডেল্টা স্পিনার্সে বকেয়া বেতন ও ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে বকেয়া বেতন পরিশোধ, শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে ডেল্টা স্পিনার্স লিমিটেডে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এসব দাবিতে ক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছেন। গত বৃহস্পতিবার দুপুরের পর উপজেলার ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের কলতাপাড়া এলাকায় মিলসংলগ্ন মহাসড়কে কয়েকশ শ্রমিক এই অবরোধ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

শ্রমিক বিক্ষোভের কারণে প্রায় আধা ঘণ্টা ওই মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। এতে প্রায় শতাধিক যানবাহন মুহূর্তেই আটকে পড়ে এবং এ সড়কে চলাচলকারী হাজারো সাধারণ যাত্রী চরম ভোগান্তির শিকার হন। পরে খবর পেয়ে গৌরীপুর থানা-পুলিশ স্থানীয়দের সহযোগিতায় আন্দোলনকারী শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

অবরোধকারী শ্রমিকেরা জানান, প্রায় দুই মাস ধরে তাঁদের পূর্ণ বেতন দেওয়া হচ্ছে না। নিয়মিত আট ঘণ্টা কাজ করার পরেও তাঁদের প্রাপ্য বেতন থেকে গত কয়েক মাস ধরে তিন থেকে চার হাজার টাকা কেটে রাখা হচ্ছে। ১৪ বছর কাজ করার পরও একজন শ্রমিকের বেতন মাত্র আট হাজার টাকা বলে তাঁরা অভিযোগ করেন। এ ছাড়া তাঁরা বোনাস ও অতিরিক্ত কাজের মজুরি নিয়েও নানা অভিযোগ তুলে ধরেছেন। বকেয়া বেতন পরিশোধের পাশাপাশি শতভাগ বোনাস, নিয়মিত ছুটি, ন্যায্য মজুরি এবং ইচ্ছামতো শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ করার দাবি জানান তাঁরা।

আন্দোলনরত শ্রমিকেরা আরও জানান, তাঁরা নিয়মিত আট ঘণ্টা কাজ করলেও খাবারের জন্য মাত্র ১০ মিনিট সময় দেওয়া হয় এবং ছুটি চাইলে কর্তৃপক্ষ গালাগাল করে। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া সাবেক শ্রমিক মিজানুর রহমান জানান, গত বছরের নভেম্বরে মিলে কাজ করার সময় মেশিনে তাঁর একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তাঁর অভিযোগ, পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার আগেই গত মার্চে ২৩ হাজার ৫৬০ টাকা দিয়ে তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয় এবং আঙুল হারানোর জন্য তাঁকে কোনো আলাদা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে কারখানার মহাব্যবস্থাপক আবু আহাম্মদ শরীফ বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা ও তাঁদের সম্মতিতে ৬০ শতাংশ বেতনে কারখানা চালু রাখা হয়েছিল। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে পূর্ণ বেতন দেওয়া হবে। তবে শ্রমিকদের গালাগাল ও খাবারের জন্য পর্যাপ্ত সময় না দেওয়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন। চাকরিচ্যুত শ্রমিক মিজানের অভিযোগের বিষয়ে তিনি জানান যে, অফিসের নথি না দেখে তিনি কিছু বলতে পারবেন না। বর্তমান পরিস্থিতিতে কারখানাটি আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, বেতন কমানো ও শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদেই শ্রমিকেরা মহাসড়কে নেমেছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় আন্দোলনরত শ্রমিকদের বুঝিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়, ফলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এ সময় স্থানীয় নেতা ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে শ্রমিকদের ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল কারখানার ভেতরে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসে।

০%
০%
০%
০%