পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় নিজেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে প্রতারণা, হোটেল কক্ষ বুকিং, বিকাশ দোকান থেকে অর্থ আত্মসাৎ এবং সরকারি নিয়োগপত্র ও বিসিএসের গেজেট জালিয়াতির অভিযোগে মো. রাসেল হাওলাদার (২৮) নামের এক যুবককে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে কুয়াকাটায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করার পর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এই সাজা দেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত রাসেল হাওলাদার ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার প্রতাপ এলাকার হারুন অর রশীদের ছেলে।
প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাসেল দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থানে নিজেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ে প্রভাব বিস্তার ও প্রতারণা করে আসছিলেন। কুয়াকাটায় এসেও তিনি একই পরিচয় দিয়ে ‘সি স্টার’ হোটেলে একটি কক্ষ বুক করেন। পরে একটি বিকাশের দোকানে গিয়ে ত্রিশ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এ সময় তার কথাবার্তা ও আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয়রা বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, রাসেলের দুটি বিয়ে রয়েছে এবং উভয় ক্ষেত্রেই তিনি নিজেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। এমনকি প্রথম স্ত্রীর কাছ থেকে প্রায় দশ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। নিজের ভুয়া পরিচয়কে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ৪৪তম বিসিএসের গেজেট জালিয়াতি করেন। গেজেটের ২৩২ নম্বর ক্রমিকে থাকা ‘মো. রাসেল মিয়া’ নাম পরিবর্তন করে সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে ‘মো. রাসেল হাওলাদার’ বসানো হয়। জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল নিজেই এই জালিয়াতির কথা স্বীকার করেছেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগপত্র জালিয়াতেরও প্রমাণ পাওয়া গেছে।
বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসিন সাদেকের নেতৃত্বে মহিপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাসুদ খানসহ পুলিশ সদস্যরা সেখানে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় রাসেলের কাছে থাকা বিভিন্ন কাগজপত্র ও নথি যাচাই-বাছাই করা হয়। নিজেকে সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে মিথ্যা পরিচয় দেওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় দণ্ডবিধির ১৭০ ধারায় তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসিন সাদেক জানান, এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। তিনি আরও বলেন, নিজেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করা একটি গুরুতর অপরাধ। প্রাপ্ত অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কেউ সরকারি কর্মকর্তা বা ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি দেখালে কিংবা টাকা দাবি করলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।