Advertisement

চার ধাপে কার্যকর হচ্ছে নবম পে-স্কেল, চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় মন্ত্রিসভার বৈঠক

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেলের সুপারিশমালা চূড়ান্ত অনুমোদনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে। দেশের বর্তমান সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ও বাজেটের ওপর সম্ভাব্য চাপ বিবেচনায় নিয়ে সরকার এই নতুন কাঠামোটি দুই অর্থবছরে মোট চার ধাপে বাস্তবায়নের একটি কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

অর্থ বিভাগের নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে নবম পে-স্কেলের আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন প্রকাশের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মন্ত্রিসভার অনুমোদন শেষে প্রস্তাবটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে। তবে প্রজ্ঞাপন প্রকাশে কিছুটা বিলম্ব হলেও কার্যকর তারিখ হিসেবে চলতি বছরের ১ জুলাইকেই নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বকেয়া বেতন পরবর্তী সময়ে সমন্বয়ের সুযোগ রাখা হবে।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক পরিকল্পনায় এই পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেছে। এর আগে সচিব কমিটি ও বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনার ভিত্তিতে বেতন বৃদ্ধির হার চূড়ান্ত করা হয়েছে। কমিশনের প্রাথমিক প্রস্তাবনায় বেতন ও ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ থাকলেও, রাষ্ট্রীয় আর্থিক সক্ষমতার কথা বিবেচনা করে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তা সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে মূল বেতনের ৩০ শতাংশ কার্যকর করা হবে। এরপর আগামী বছরের জানুয়ারি মাসে দ্বিতীয় ধাপে আরও ৩৫ শতাংশ বাস্তবায়ন করা হবে। অবশিষ্ট অংশ পরবর্তী অর্থবছরের জুলাই ও জানুয়ারি মাসে পৃথক দুটি ধাপে কার্যকর করার রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় উন্নীত করার সুপারিশ রয়েছে।

ধাপে ধাপে এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের যৌক্তিক দাবি পূরণের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষা করা। এর ফলে একদিকে যেমন কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ঘটবে, অন্যদিকে জাতীয় বাজেটের ওপর কোনো প্রকার অতর্কিত বা অসহনীয় চাপ সৃষ্টি হবে না। সরকারি নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, এই সমন্বিত উদ্যোগ দেশের প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার করবে।

0%
0%
0%
0%