সুনামগঞ্জে হোটেল শ্রমিকদের মজুরি বাস্তবায়ন ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ

সুনামগঞ্জ শহরের রায়পাড়াস্থ কার্যালয় থেকে সোমবার সকালে হোটেল ও রেস্তোরাঁ শ্রমিকদের একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। সরকার ঘোষিত সর্বনিম্ন মজুরি বাস্তবায়ন, শ্রম আইন কার্যকর করা এবং শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে আয়োজিত এই কর্মসূচি শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। এসময় শ্রমিকরা জেলা প্রশাসকের কাছে তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো সম্বলিত একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন, যা গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মতিউর রহমান।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে হোটেল ও রেস্তোরাঁ খাতের প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ২০২৩ সালে ঘোষিত সর্বনিম্ন মজুরির গেজেট আজও কার্যকর করা হয়নি এবং শ্রম আইন উপেক্ষা করে মালিকপক্ষ শ্রমিকদের দিয়ে ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা কাজ করিয়ে নিচ্ছে। অথচ আইন অনুযায়ী নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র প্রদানসহ ৮ ঘণ্টা কর্মদিবস নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের ওপর চালানো দমন-পীড়ন এবং ঢাকার স্টার কাবাবসহ নানা প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।
পরবর্তীতে শহরের আলফাত উদ্দিন চত্বরে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, কলকারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তরের নিয়মিত তদারকির অভাবে অনেক প্রতিষ্ঠান আইন লঙ্ঘন করে চলেছে। সমাবেশে হোটেল রেষ্টুরেন্ট মিষ্টি বেকারি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সুরঞ্জিত দাসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক টিটু দাসের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন সুখেন্দু তালুকদার মিন্টু, সাইফুল আলম ছদরুল, মনির মিয়া ও জিয়াউর রহমান। রংপুরে নিহত শ্রমিক শাওনের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও ঘটনার সাথে জড়িতদের শাস্তির দাবি তুলে বক্তারা হুঁশিয়ারি দেন যে, অতি দ্রুত দাবি আদায় না হলে দেশজুড়ে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
