Advertisement

ক্যারিয়ারের তুঙ্গে থাকা অবস্থায় যে সিদ্ধান্তের কারণে রুপালি জগত থেকে হারিয়ে যান ভাগ্যশ্রী

বলিউডের রূপালি পর্দায় এমন কিছু নাম থাকে, যাদের উপস্থিতি ঝড়ের মতো আসে আর মিলিয়ে যায় আকাশের তারার মতোই। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে তেমনই এক নাম ভাগ্যশ্রী। ‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’ দিয়ে যে সাফল্যের চূড়ায় তিনি পৌঁছেছিলেন, তা রূপকথার মতো। অথচ ক্যারিয়ারের সেই সুবর্ণ সময়ে তিনি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তা আজও বলিউডের ইতিহাসের অন্যতম বড় এক ‘হয়তো’ হয়ে রয়ে গেছে।

১৯৮৯ সালে ‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’ সিনেমাটি ভারতীয় পপ কালচারে এক বিপ্লব ঘটিয়েছিল। সালমানের বিপরীতে ভাগ্যশ্রীর সেই স্নিগ্ধ রূপ ও সাবলীল অভিনয় দর্শকদের হৃদয়ে এমনভাবে জায়গা করে নিয়েছিল যে, তাঁকে রাতারাতি তারকা বানিয়ে দেওয়া ছিল সময়ের ব্যাপার মাত্র। কিন্তু সেই তুমুল চাহিদার মুখে দাঁড়িয়ে ভাগ্যশ্রী বেছে নিয়েছিলেন ব্যক্তিগত সুখ ও সংসার। তিনি চেয়েছিলেন প্রেম ও পরিবারের উষ্ণতা, যা সেই সময়ের গ্ল্যামার দুনিয়ার নিয়মের সঙ্গে ছিল একেবারেই বেমানান।

বিজ্ঞাপন

অনেকেই হয়তো জানেন না, ‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’ মুক্তির সময়ই তিনি ব্যবসায়ী হিমালয় দাসানির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন এবং ছিলেন সন্তানসম্ভবা। তৎকালীন বলিউডের রক্ষণশীল ধারায় একজন নায়িকার জন্য সংসার ও অভিনয় ক্যারিয়ারের সমান্তরাল পথচলা ছিল প্রায় অসম্ভব। ভাগ্যশ্রী পরিস্থিতির চাপে কিংবা নিজের আবেগের বশে এমন এক সিদ্ধান্ত নেন, যা তাঁর সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ারের গতিপথ পুরোপুরি বদলে দেয়। তিনি ঘোষণা করেন, চলচ্চিত্রে অভিনয় করলে কেবল স্বামী হিমালয় দাসানির বিপরীতেই করবেন। এই জেদ ‘কায়েদ মে হ্যায় বুলবুল’ কিংবা ‘পায়াল’-এর মতো ছবি উপহার দিলেও, দর্শক তা ভালোভাবে গ্রহণ করেননি।

সেই সময়ে বড় বড় নির্মাতারা তাঁকে নিয়ে কাজ করতে উদগ্রীব ছিলেন। কিংবদন্তি নির্মাতা যশ চোপড়া থেকে শুরু করে মনমোহন দেশাই—সবার দুয়ার খোলা ছিল তাঁর জন্য। ভাগ্যশ্রীর স্মৃতিচারণায় উঠে এসেছে মনমোহন দেশাইয়ের সেই আক্ষেপ ভরা অনুরোধ, ‘শুধু একটিবার হ্যাঁ বলো, আমি আগামীকালই ছবির ঘোষণা দিয়ে দেব।’ অথচ ক্যারিয়ারের চূড়ায় থাকা এক তরুণী যখন বারবার প্রত্যাখ্যান করেন, তখন ইন্ডাস্ট্রিও তা সহজভাবে নেয়নি। সমসাময়িক অভিনেত্রী জুহি চাওলাও রসিকতা করে বলেছিলেন, ভাগ্যশ্রীর বিদায়ে অনেকেই যেন সেদিন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিলেন।

বিজ্ঞাপন

বহু বছর পর আজকের পরিপক্ব ভাগ্যশ্রী নিজের সেই তরুণ বয়সের সিদ্ধান্তকে ভুল বলে স্বীকার করলেও, তাতে অনুশোচনার চেয়ে প্রাপ্তির পাল্লাই ভারী বলে মনে করেন। তিনি হারিয়েছেন যশ চোপড়ার মতো পরিচালকের সঙ্গে কাজের সুযোগ, যা একজন শিল্পীর জন্য বড় আক্ষেপের। তবে জীবনকে তিনি দেখেন ভিন্ন এক চশমায়। তাঁর কাছে ক্যারিয়ারের চেয়ে নিজের বিশ্বাস আর পরিবার ছিল অনেক বড়।

বলিউডের গৎবাঁধা সাফল্যের সংজ্ঞায় ভাগ্যশ্রী হয়তো এক অসম্পূর্ণ গল্পের নাম। কিন্তু জীবনের সমীকরণে তিনি একজন বিজয়ী। আজকের দিনে যখন তারকারা ব্যক্তিগত জীবন ও পেশাগত সাফল্যের ভারসাম্য নিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন, তখন অনেক বছর আগেই জীবনের কঠিন সেই পরীক্ষায় নিজের শর্তে টিকে থাকা ভাগ্যশ্রী এক জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে আছেন। আক্ষেপ হয়তো আছে, কিন্তু সেই আক্ষেপের চেয়েও বড়—নিজের নেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে বেঁচে থাকার আত্মতৃপ্তি।

0%
0%
0%
0%