জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধ: ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলো ১০ সাবেক মন্ত্রী-এমপি ও কর্মকর্তাকে

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগ সরকারের দশজন সাবেক প্রভাবশালী মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাদের দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে নিয়ে আসা হয়। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্ধারিত দিনের প্রেক্ষিতেই তাদের সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত।
ট্রাইব্যুনালে হাজির করা আসামিদের তালিকায় রয়েছেন সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এবং সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। এছাড়াও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, গোপালগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) ফারুক খান, আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রসচিব জাহাংগীর আলমকে ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় তোলা হয়।
তালিকাভুক্ত অপর দুই আসামি হলেন সাবেক সংসদ সদস্য সোলাইমান সেলিম এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী। প্রসিকিউশন সূত্র জানিয়েছে, জুলাইয়ের উত্তাল দিনগুলোতে সংঘটিত নৃশংসতা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে এই আসামিদের উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রসিকিউশন পক্ষ সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকনির্দেশনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে বিগত শাসনামলে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ভূমিকা নিয়ে জনমনে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল এই মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তা এখন দেখার অপেক্ষায় সংশ্লিষ্ট সবাই।
