ব্রাহ্মণপাড়ায় চাঁদাবাজি ও সরকারি কাজে বাধার মামলায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় সরকারি কাজে বাধা প্রদান ও চাঁদাবাজিসহ তিনটি পৃথক মামলার এজাহারনামীয় দুই পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিশেষ অভিযান চালিয়ে উপজেলার সিদলাই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন স্থানীয় আমির হোসেন জুবেদা ডিগ্রি কলেজের সভাপতি মো. সাব্বির হোসেন এবং একই গ্রামের বাসিন্দা মো. শাকিব।
থানা সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল সিদলাই ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি সাব্বির হোসেন ও মো. শাকিবকে গ্রেপ্তার করা হয়। সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া এবং চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
সাব্বির হোসেনের বিরুদ্ধে এর আগেও চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। গত এক ঘটনায় এক হাঁস বিক্রেতার কাছে ৭০০ টাকার হাঁস বিক্রির বিপরীতে ৩০০ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সাব্বির হোসেনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি এমদাদুল হক ধীমান এ প্রসঙ্গে জানান, দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকায় সাব্বির হোসেনকে কলেজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি যদি কোনো অনৈতিক বা বেআইনি কাজের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন, তবে তার দায় সংগঠন নেবে না। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি সাংগঠনিকভাবেও তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফারুক হোসেন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দীর্ঘ সময় পলাতক থাকার পর আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং শুক্রবার সকালে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা ও ভুক্তভোগীরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
