রংপুরে চার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সুষ্ঠু বিচারের প্রতিশ্রুতি নতুন পুলিশ কমিশনারের

রংপুর মহানগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের তিন সদস্যের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের আট দিন পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মাহবুবুর রশীদ। শুক্রবার দুপুরে নিহত শিক্ষকের বাসভবনে উপস্থিত হয়ে তিনি এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে খোঁজখবর নেন। গত বৃহস্পতিবার দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই ছিল তার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পরিদর্শন কার্যক্রম।
গত ২০ আগস্ট রাতে মাছুয়াপাড়ার নিজ বাসা থেকে গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী এবং ছেলে আয়ুস চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে চারজনকেই শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই ঘটনায় নিহত গণপতির বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার সূত্র ধরে ইতোমধ্যেই কানু দাসের ছেলে মুগ্ধ দাস এবং বিনয় দাসের ছেলে সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পরিদর্শনকালে পুলিশ কমিশনার মাহবুবুর রশীদ সাংবাদিকদের বলেন, মাদক কেবল রংপুরের সমস্যা নয়, এটি জাতীয় পর্যায়ের একটি সামাজিক ব্যাধি। মাদকের বিরুদ্ধে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দৃশ্যমান ও কঠোর অভিযান পরিচালনার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি। একইসঙ্গে স্থানীয়দের সহযোগিতায় রংপুরকে শান্তি, নিরাপত্তা ও সুশাসনের নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে পুলিশ বদ্ধপরিকর বলে জানান তিনি।
এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার নরেশ চাকমা, গোয়েন্দা শাখার উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী ও কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল কাদিরসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত সম্পন্ন করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে দৃঢ় আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে পুরো ঘটনায় শোকস্তব্ধ এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
