অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে আছে পর্যটন সম্ভাবনাময় বাঁশখালী উপকূল

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় পাহাড়, সমুদ্র, নদী ও সমতল ভূমির এক অনন্য সমন্বয় থাকলেও প্রচারের অভাব ও প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এটি আজও অবহেলিত রয়ে গেছে। অথচ এই জনপদে ৩৭ কিলোমিটার বিস্তৃত বিশাল সমুদ্র সৈকত, ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ পাহাড়ি হ্রদ এবং বৈচিত্র্যময় জীববৈচিত্র্য সম্বলিত ইকোপার্কের মতো পর্যটন নিদর্শন ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। এছাড়া ৩৬৬২ একর সীমানা জুড়ে অবস্থিত চাঁদপুর বৈলগাঁও চা-বাগান এবং সমুদ্র মোহনায় অবস্থিত খাটখালী মিনি সমুদ্রবন্দর এলাকাটিকে পর্যটন মানচিত্রে আলাদা উচ্চতা দিয়েছে।
ঐতিহাসিকভাবেও এ উপজেলাটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। অসংখ্য মসজিদ, মন্দির, কেয়াং এবং পীর-মাশায়েখ ও সাধু-সন্ন্যাসীদের তীর্থভূমি হিসেবে বাঁশখালী আধ্যাত্মিক পর্যটনেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সরকারের নীতিনির্ধারকদের অনেকেই এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সরকারি সুদৃষ্টি ও যথাযথ পরিকল্পনার মাধ্যমে বাঁশখালীকে একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব, যা কক্সবাজারের বিকল্প হিসেবেও পরিচিতি পেতে পারে।
ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে কক্সবাজারের সন্নিকটে অবস্থিত হওয়ায় বাঁশখালীর গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাঁশখালী-পেকুয়া হয়ে চকরিয়া-কক্সবাজার পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, যা বাস্তবায়ন হলে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের যাতায়াত সহজতর হবে। পশ্চিম বাঁশখালীর ছনুয়া, গন্ডামারা, সরল, বাহারছড়া ও খানখানাবাদ উপকূল জুড়ে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা ৩৭ কিলোমিটার বেলাভূমি এবং এর ঝাউবন ভ্রমণপিপাসুদের মনে নতুন করে শিহরণ জাগায়।
বিশাল এই সৈকত এলাকায় লবণের মাঠ, চিংড়ি ঘের এবং প্যারাবনের মতো নান্দনিক দৃশ্যপট বিদ্যমান। এর পাশাপাশি ১৩০০ মেগাওয়াট কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের সুউচ্চ স্থাপনাগুলোও পর্যটকদের বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে কাজ করছে। বেসরকারিভাবে স্বীকৃতি পাওয়ার পরেও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিশেষ করে মানসম্মত রাস্তাঘাট ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার অপ্রতুলতা এই অঞ্চলের পর্যটন শিল্পের বিকাশে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি বিনিয়োগ ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে বাঁশখালী অচিরেই দেশের অন্যতম সেরা পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হবে। পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে তা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়ের নতুন উৎস হিসেবে গণ্য হবে। অবহেলিত এই জনপদের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পর্যটন শিল্পকে বিকশিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন এলাকাবাসী।
