অতিবৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরজুড়ে তীব্র জলাবদ্ধতা পাহাড় ধসের সতর্কতা জারি

টানা অতিবর্ষণে তলিয়ে গেছে চট্টগ্রাম নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকা, যার ফলে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। বিশেষ করে মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, চকবাজার, বাকলিয়া, কাতালগঞ্জ, কাপাসগোলা ও আগ্রাবাদের মতো নিচু এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতা স্থায়ী রূপ নিয়েছে। ভোরের আলো ফুটতেই কর্মজীবী মানুষ ও শিক্ষার্থীদের নিত্যদিনের চলাচলের পথে পোহাতে হয়েছে অবর্ণনীয় ভোগান্তি।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা ইসমাইল ভূঁইয়া জানিয়েছেন, সোমবার সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ১৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র তিন ঘণ্টায় অর্থাৎ সকাল ছয়টা থেকে নয়টা পর্যন্ত ১০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, পুরো দিনজুড়ে চট্টগ্রাম ও এর আশপাশের এলাকায় ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলতে পারে।
পাহাড়ি এলাকাগুলোতে অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড় ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসনকে বিশেষ সতর্কবার্তা প্রদান করা হয়েছে। এদিকে, নগরীর বিভিন্ন স্থানে হাঁটু সমান পানি জমে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গণপরিবহনের তীব্র সংকটের সুযোগে রিকশাচালকরা যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বহদ্দারহাটের খাজা রোডের বাসিন্দা হাবিব জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই তাদের ঘরবাড়ি জলমগ্ন হয়ে পড়ে, যা এখন নিত্যদিনের সমস্যায় পরিণত হয়েছে। বৃষ্টির তোড়ে অনেক নিচতলার দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। জলাবদ্ধতার এই দীর্ঘস্থায়ী সংকট নিরসনে কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে ভুক্তভোগী নগরবাসী প্রত্যাশা করছেন।
