ঘুষ গ্রহণ ও উচ্ছেদের অভিযোগে সখীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তার বদলির নির্দেশ মন্ত্রীর

টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার বহেড়াতৈল রেঞ্জের হলুদিয়াচালা এলাকায় বন বিভাগের উচ্ছেদ করা একটি ঘর পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট মহল। রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে জেলা বন কর্মকর্তাকে (ডিএফও) মুঠোফোনে তলব করেন তিনি।
পরিদর্শনকালে অভিযোগ তোলা হয় যে, উচ্ছেদ করা স্থাপনাটি আদতে একটি ক্ষুদ্র চা-স্টল ছিল, যা পরবর্তীকালে বর্ধিত করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, রেঞ্জ কর্মকর্তা এমরান আলী ঘর নির্মাণের অনুমতি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। পরবর্তীতে টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে অথবা নিজ দায় এড়ানোর কৌশল হিসেবেই পরিকল্পিতভাবে ঘরটি উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে ধারণা করছেন ভুক্তভোগীরা।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রেঞ্জ কর্মকর্তা এমরান আলীকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বদলি করার জন্য জেলা বন কর্মকর্তার প্রতি কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন কর্মকর্তা দায়িত্ব গ্রহণের পর স্থানীয় বাসিন্দারা যাতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও সজাগ দৃষ্টি রাখার তাগিদ দেওয়া হয়।
আটিয়া বন আইন প্রসঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করে জানানো হয় যে, এই বিতর্কিত আইন বাতিল না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয়দের পৈতৃক বা দীর্ঘদিনের পুরনো ঘরবাড়ি সংস্কারে কোনো প্রকার বাধা দেওয়া চলবে না। আইনটি নিয়ে দীর্ঘ আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের অমানবিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়।
এদিকে, অর্থ লেনদেনের বিষয়ে অভিযুক্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা এমরান আলীর কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া সম্ভব হয়নি। পরিদর্শনের সময় সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম এবং সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুরাদ হোসেনসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
