ফের জলাবদ্ধতায় ডুবছে ভবদহ অঞ্চল তলিয়ে গেছে ২২০টি মাছের ঘের

যশোরের অভয়নগর উপজেলার ভবদহ অঞ্চলে টানা বর্ষণে পুনরায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। নদ-নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বিস্তীর্ণ জনপদ, ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সড়ক তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে বীজতলার মাঠ ও অসংখ্য মাছের ঘের পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় নতুন করে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
প্রতি বছর বছরের প্রায় ছয় মাস পানিবন্দি থাকা ভবদহবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ নিরসনে এবার সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নদী ও খাল পুনঃখননের কার্যক্রম শুরু হয়। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে স্থায়ী সমাধানের আশা জেগে উঠলেও বর্ষার শুরুতেই অতিবৃষ্টির কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এতে করে আগের মতোই গৃহহীন হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ এবং তলিয়ে গেছে স্থানীয়দের একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম মৎস্য খামারগুলো।
উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা লিপটন সরদার জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টিতে উপজেলার প্রায় ২২০টি মাছের ঘের ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। প্রাথমিক তথ্যমতে, এই মৎস্য খাত থেকে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৭ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। অন্যদিকে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির নেতা ইকবাল জাহিদ দাবি করেছেন, শুধু নদী খনন নয়, বরং টিআরএম বা টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট পদ্ধতি কার্যকর করা জরুরি। খর্ণিয়া ব্রিজের দক্ষিণাংশে নির্মিত অস্থায়ী বাঁধের কারণে পলি জমে প্রায় সাত কিলোমিটার নদীপথ ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সেনাবাহিনী ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের যৌথ উদ্যোগে প্রায় ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮১ দশমিক ৫ কিলোমিটার নদী ও খাল খননের কাজ চলমান থাকলেও প্রকল্পের সুফল নিয়ে জনমনে সংশয় দেখা দিয়েছে। তবে যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ ব্যানার্জি জানিয়েছেন, খর্ণিয়া এলাকায় ড্রেজিং কাজে বিলম্বের কারণে সাময়িক এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে নয়টি স্লুইস গেট খুলে দেওয়া হয়েছে এবং পানির উচ্চতা কিছুটা কমতে শুরু করেছে।
প্রকৌশলী পলাশ ব্যানার্জি আরও জানান, বর্তমানে ২৯টি স্লুইস গেট প্রস্তুত রয়েছে এবং আরও ১১টি গেট চালুর পরিকল্পনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ভারী বর্ষণ না হলে আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে পানি পুরোপুরি নেমে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে সহায়-সম্বল হারানো ক্ষতিগ্রস্তরা দ্রুত স্থায়ী সমাধান ও সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।
