অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর দমনপীড়ন ও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতায় ছয় ফিলিস্তিনি আহত

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসন এবং বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে এখন পর্যন্ত এই অঞ্চলে ১১ হাজারেরও বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ শুক্রবার নাবলুস এবং বেথলেহেমের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে দুই প্যারামেডিকসহ অন্তত ছয়জন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন।
ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য মতে, নাবলুসের পূর্বে বেইত ফুরিক এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর নির্মম নির্যাতনের শিকার এক ব্যক্তিকে চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন তাদের কর্মীরা। নির্যাতনের পর ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাকে উদ্ধারে রেড ক্রিসেন্ট আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করছে। একই এলাকায় বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের একটি গাড়ি ভাঙচুর করেছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।
বেথলেহেমের আবু নজেইম এলাকায় বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় তিনজন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। এছাড়া, খালায়েল আল-লৌজ এলাকায় আহতদের উদ্ধার করতে যাওয়া অ্যাম্বুলেন্সে পাথর নিক্ষেপ করা হলে দুই প্যারামেডিক আহত হন এবং অ্যাম্বুলেন্সটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব হামলার আগে কালান্দিয়া শরণার্থী শিবিরে দুই দিনব্যাপী ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে ৪৮ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীরে অন্তত ১ হাজার ১৮২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একই সময়ে প্রায় ১৩ হাজার মানুষ আহত এবং ২৫ হাজার ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অধিকারকর্মী ও বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিকল্পিত সহিংসতার মূল উদ্দেশ্য হলো ফিলিস্তিনি গ্রাম ও শহরগুলোর ওপর ইসরায়েলের অবৈধ নিয়ন্ত্রণ আরও সুদৃঢ় করা।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয় উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে যে, ইসরায়েলি বাহিনী এবং বসতি স্থাপনকারীরা নিয়মিতভাবে ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর ওপর চড়াও হচ্ছে, মসজিদ জ্বালিয়ে দিচ্ছে এবং সম্পত্তি দখল করছে। সংস্থাটির মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি সম্প্রতি জানিয়েছেন, পশ্চিম তীরে চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে এবং বসতি স্থাপনের হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান এই হত্যাযজ্ঞ ও উচ্ছেদ বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জরুরি ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
