AdvertisementAdvertisement

নেছারাবাদের ভাসমান পেয়ারা বাজার হিমাগারের অভাবে লোকসানের শঙ্কায় চাষিরা

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় মৌসুমের শুরুতেই জমে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী ভাসমান পেয়ারার বাজার। কয়েকশ বছরের পুরোনো এই বাগানগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বাণিজ্যে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিলেও ন্যায্য দাম ও হিমাগার সংকটের কারণে আক্ষেপ রয়েই গেছে। বর্ষা মৌসুমের এই সময়ে ভিমরুলীসহ পার্শ্ববর্তী খালগুলোতে পানসি নৌকায় পেয়ারার পসরা সাজিয়ে বসেন চাষিরা, যা বর্তমানে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে ইকো-ট্যুরিজমের এক আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।

বরিশাল বিভাগের নেছারাবাদ, ঝালকাঠি সদর ও বানারিপাড়া উপজেলার ২৪টি গ্রামে প্রায় চার হাজার কৃষক বংশপরম্পরায় পেয়ারা চাষের সঙ্গে জড়িত। কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৮৭৮ হেক্টর জমিতে তিন হাজার ২২০টি বাগান রয়েছে, যার ওপর ভিত্তি করে প্রায় ১৬ হাজার শ্রমজীবী মানুষের জীবন-জীবিকা নির্বাহ হয়। বর্তমানে প্রতি মণ পেয়ারা পাইকারি বাজারে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হওয়ায় উৎপাদন খরচের তুলনায় মুনাফা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় চাষিরা।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

পেয়ারা সংরক্ষণের স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বছর কোটি টাকার ফল নষ্ট হওয়ার কথা জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা। বিনয় হালদার ও কালীদাস মণ্ডলের মতো প্রবীণ চাষিরা জানান, হিমাগারের অভাবে উৎপাদিত ফসলের সঠিক মূল্য পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এছাড়া সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণের অভাব এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের অভাবে অনেক চাষিই এই পেশা ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন।

নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে নেছারাবাদের উন্নতমানের পেয়ারা বিশ্বের ১৭টি দেশে রপ্তানি করা হতো, যা থেকে বছরে প্রায় ৮০ কোটি টাকার রাজস্ব অর্জিত হতো। তবে হিমাগার না থাকা এবং রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গত কয়েক বছর ধরে কৃষকরা চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন। রপ্তানি পুনরায় চালুর দাবি জানিয়ে তারা বলছেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই পেয়ারা বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে পুনরায় বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহাফুজুর রহমান জানিয়েছেন, পেয়ারা সংরক্ষণের জন্য সরকারিভাবে হিমাগার নির্মাণের প্রস্তাবনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। তবে দ্রুত হিমাগার নির্মাণ ও রপ্তানি বাজার নিশ্চিত করার পাশাপাশি চাষিদের জন্য সহজ শর্তে ঋণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা, যাতে এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পায়।

0%
0%
0%
0%