জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ অপি মিয়ার শরীরে আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন যন্ত্রণার ক্ষত

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার দুগনই গ্রামের বাসিন্দা এবং নেত্রকোনা সরকারি কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. অপি মিয়া গত বছরের ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল দিনগুলোতে আশুলিয়ায় মিছিলে অংশ নিয়ে গুলিবিদ্ধ হন। প্রাণে বেঁচে ফিরলেও সেই গুলির ক্ষত আর শারীরিক যন্ত্রণা আজও তার নিত্যসঙ্গী, যা তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে দিচ্ছে না। উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি প্রয়াত সবুজ মিয়ার ছোট ছেলে অপি মিয়া দীর্ঘ চিকিৎসার পর বাড়ি ফিরে এলেও শারীরিক সক্ষমতা এখনো পুরোপুরি ফিরে পাননি।
আন্দোলনের সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করতে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা জানান, ছোড়া একটি গুলি অপির নাভির নিচের বাম পাশ দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে পিঠ দিয়ে বেরিয়ে যায়। মুমূর্ষু অবস্থায় সহযোদ্ধারা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টায় দুই দফা অস্ত্রোপচারের পর তিনি নতুন জীবন ফিরে পান। প্রায় এক বছর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর বর্তমানে তিনি বাড়িতে অবস্থান করলেও শরীরের ভেতরে রয়ে যাওয়া ক্ষত তাকে প্রতিনিয়ত কষ্ট দিচ্ছে।
অপি মিয়া জানান, অস্ত্রোপচারের ক্ষতস্থানে এখনো প্রায়ই তীব্র ব্যথা অনুভব করেন, যা অনেক সময় অসহনীয় হয়ে ওঠে। ব্যথার তীব্রতায় দীর্ঘ সময় বিছানা থেকে ওঠার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেন তিনি, যার ফলে দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। তবে দীর্ঘ কষ্টের মধ্যেও দেশের মানুষ স্বৈরশাসনের কবল থেকে মুক্তি পেয়েছে—এই অনুভূতির কথা তুলে ধরে তিনি জানান, এই বড় প্রাপ্তিই তাকে মানসিকভাবে সাহস জোগাচ্ছে।
অপির বড় ভাই এম শহীদ জানান, দীর্ঘ এই চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় পরিবারের বড় অংকের অর্থ ব্যয় হয়েছে এবং এখনো নিয়মিত চিকিৎসা ও ফলোআপ অব্যাহত রয়েছে। জীবন আর আগের মতো সচল নেই উল্লেখ করে পরিবারের পক্ষ থেকে অপির দ্রুত সুস্থতা ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।
