AdvertisementAdvertisement

দেশে ফেরা নিয়ে হাসিনাকে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর ও বিশ্লেষকরা

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা এবং তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বর মাসে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের ইচ্ছা প্রকাশ করলেও, তার এই বক্তব্যকে আইনজ্ঞরা ‘চাতুর্যপূর্ণ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। একইসঙ্গে দিল্লিতে তার সম্ভাব্য রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া নিয়ে ভারত সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকার ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে ইতিবাচক ধারায় এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে ভারতে পলাতক কোনো সাজাপ্রাপ্ত আসামি বা কার্যক্রম-নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রধান যদি রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান করেন, তবে তা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, শেখ হাসিনা কোথায় কী বলছেন, তার জবাব দেওয়া বাংলাদেশ সরকারের কাজ নয়; বরং এ ধরনের কর্মকাণ্ডে ভারত সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি কী, তা তাদেরই পরিষ্কার করতে হবে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকালীন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন। ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে শেখ হাসিনার স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার কোনো আইনগত সুযোগ নেই। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভারত সরকারের কাছে তাকে ফেরত চেয়ে আবেদন জানানো হয়েছে। ভারত সরকার চাইলে বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় তাকে বাংলাদেশে হস্তান্তর করতে পারে, অথবা তাকে আইনগত হেফাজতে নিতে হবে। আমিনুল ইসলাম তার মন্তব্যে বলেন, আত্মসমর্পণ নয়, দেশে ফিরলে তাকে সরাসরি পুলিশি হেফাজতে কারাগারে যেতে হবে।

শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া প্রসঙ্গে আয়োজক ক্লাবের দাবির বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, বিষয়টি নিয়ে ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বাংলাদেশের উদ্বেগের কথা অতীতেও বিভিন্ন কূটনৈতিক পর্যায়ে লিখিত ও মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করে আসছে। প্রয়োজনবোধে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে ভারত সরকারের কাছে এ বিষয়ে পুনরায় ব্যাখ্যা চাওয়া হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

এদিকে, দেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থার পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, শেখ হাসিনার এমন ঘোষণা জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর একটি অপকৌশল মাত্র। সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, বিচারের মুখোমুখি হওয়ার সদিচ্ছা ইতিবাচক হলেও, আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী তাকে প্রথমে গ্রেপ্তার বা হেফাজতে নেওয়া হবে, আত্মসমর্পণের সুযোগ সেখানে সীমিত। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের রায় এবং আপিলের তামাদি মেয়াদ অতিক্রান্ত হওয়ায় আইনি জটিলতা আরও ঘনীভূত হয়েছে। সব মিলিয়ে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ইস্যুটি এখন আইনগত ও কূটনৈতিক— উভয় ক্ষেত্রেই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।

0%
0%
0%
0%