AdvertisementAdvertisement

পদোন্নতি ও নিয়োগ জটিলতায় রেলচালকদের কর্মবিরতি, বিভিন্ন রুটে ট্রেন চলাচল ব্যাহত

পদোন্নতির দাবিসহ বিভিন্ন যৌক্তিক দাবিতে বাংলাদেশ রেলওয়ের লোকোমাস্টারদের (ট্রেনচালক) আকস্মিক কর্মবিরতির প্রভাবে সারা দেশে ট্রেন চলাচল ব্যবস্থায় চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। এলএম গ্রেড-২ পদে পদোন্নতির পরিবর্তে চুক্তিভিত্তিক লোকোমাস্টার নিয়োগের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত ৩০ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে চালকরা আন্দোলন শুরু করলে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের অন্তত ৯টি আন্তঃনগর ও কমিউটার ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় ঘটে। এতে হাজারো যাত্রী বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।

রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, রাজশাহী, খুলনা, ঢাকা ও উত্তরাঞ্চলগামী গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনগুলো বিভিন্ন স্টেশনে দীর্ঘ সময় আটকে থাকার ফলে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনটি জয়দেবপুর স্টেশনে ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট এবং চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ধীরাশ্রম ও টঙ্গী স্টেশনে বিরতিহীন অবস্থানের কারণে মোট ১ ঘণ্টা ২৫ মিনিট বিলম্বে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। এ ছাড়া বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস ট্রেনটি রাজশাহী স্টেশনে ১ ঘণ্টা ২৫ মিনিট এবং সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস মোবারকগঞ্জ স্টেশনে ১ ঘণ্টা বিলম্বে চলাচল করে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

কর্মসূচির কারণে অন্যান্য ট্রেনের সময়সূচিতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। কালুখালী স্টেশনে ৫০৮ নম্বর লোকাল ট্রেন ৪৫ মিনিট, পোড়াদহ স্টেশনে ২৬ নম্বর নকশীকাঁথা কমিউটার এবং ৭৮৪ নম্বর টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস ৪০ মিনিট করে বিলম্বের শিকার হয়েছে। পাশাপাশি সরদহ রোড স্টেশনে বনলতা এক্সপ্রেস ৩৫ মিনিট এবং ঢালারচর এক্সপ্রেস ৪৫ মিনিট দেরিতে চলাচল করতে বাধ্য হয়। এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত সমস্যার সমাধান চেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী যাত্রীরা।

রেলওয়ে কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, লোকোমাস্টাররা দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতিসহ চাকরির কাঠামোগত উন্নয়নের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। সেই দাবি উপেক্ষা করে কর্তৃপক্ষ চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করায় চালকরা কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হন। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করতে রেল কর্তৃপক্ষ চালকদের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

যাত্রীসেবা স্বাভাবিক রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন রেলওয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। তবে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে রেলওয়ে খাতের এই বিশৃঙ্খলা নিরসনে দ্রুত কোনো সুরাহা না হলে যাত্রী দুর্ভোগ আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সাধারণ মানুষ। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।

0%
0%
0%
0%