তিস্তায় ভাঙন আতঙ্ক অব্যবহৃত পড়ে আছে সরকারি রেসকিউ বোট

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তা নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েই চলেছে। প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি ও বসতভিটা, আর গৃহহীন মানুষরা দিশেহারা হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছেন। এমন সংকটাপন্ন মুহূর্তে দুর্যোগকবলিত মানুষকে উদ্ধারের জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত একটি মাল্টিপারপাস রেসকিউ বোট দীর্ঘ সময় ধরে অবহেলায় কাদা মাটিতে পড়ে রয়েছে।
‘তিস্তা-রংপুর-২’ নামের এই নৌযানটি উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদের অদূরে তিস্তার পাড়ে অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, উদ্বোধনের দিন ছাড়া বোটটি আর কখনো নদীতে নামানো হয়নি। অথচ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে আসা এই বোটটির মূল উদ্দেশ্য ছিল বন্যা ও নদীভাঙনের সময় মানুষের জীবন রক্ষা করা।
নদীপাড়ের বাসিন্দাদের আক্ষেপ, যখন নদীভাঙনে হাজারো মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন, তখন উদ্ধারকারী এই বোটটি মাটির ওপর ফেলে রাখা চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয়। মানিক মিয়া ও মোকলেছুর রহমানের মতো স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দুর্যোগের সময় জীবন রক্ষাকারী এই নৌযানটির প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম, কিন্তু সরকারি অবহেলায় তা এখন কেবলই একটি ধাতব কাঠামোতে পরিণত হয়েছে।
অথচ এই বোটটির রক্ষণাবেক্ষণ বা পরিচালনার বিষয়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কোনো দপ্তরেই নেই প্রয়োজনীয় তথ্য। গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাঈদুল ইসলাম জানান, তিনি নতুন দায়িত্ব নিয়েছেন এবং প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ বিষয়ে তার কাছে কোনো নথিপত্র নেই। একইভাবে রংপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া জানান, ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রকল্পটি চালু হওয়ার পর বর্তমানে এটি নিষ্ক্রিয় অবস্থায় পড়ে আছে।
তিস্তার ভাঙনকবলিত চরাঞ্চলে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে নৌযানই হয়ে ওঠে একমাত্র ভরসা। এমতাবস্থায় সরকারি এই সম্পদ অকেজো হয়ে পড়ে থাকায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী বোটটির প্রকৃত দায়বদ্ধতা নির্ধারণ করে দ্রুত এটি সচল করার দাবি জানিয়েছেন, যাতে আগামী দিনে দুর্যোগের সময় অসহায় মানুষগুলো অন্তত প্রাথমিক উদ্ধার সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়।
