AdvertisementAdvertisement

ইউরোপমুখী অবৈধ অভিবাসনে শীর্ষে বাংলাদেশ বাড়ছে মানবপাচার ও সাইবার প্রতারণার ঝুঁকি

আন্তর্জাতিক মানব পাচারবিরোধী দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত বিভিন্ন গবেষণা ও তথ্যচিত্রে উঠে এসেছে এক ভয়াবহ চিত্র। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি ও গ্রিসে অনিয়মিতভাবে প্রবেশকারী অভিবাসীদের তালিকায় আবারও শীর্ষস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। প্রতারণার ফাঁদ, সাইবার অপরাধ, নারী পাচার এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মতো জটিল পরিস্থিতিতে জড়িয়ে পড়ে দেশটির নাগরিকদের মানবপাচারের ঝুঁকি বর্তমানে চরম উদ্বেগের পর্যায়ে পৌঁছেছে।

ইউরোপীয় সীমান্তরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্স এবং ব্র্যাকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ভূমধ্যসাগরীয় রুট ব্যবহার করে ২০ হাজার ২৫৯ জন বাংলাদেশি ইউরোপে পৌঁছেছেন। এর মধ্যে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই ইতালিতে ৪ হাজার ২৪৯ জন এবং গ্রিসে ৩ হাজার ৬০৮ জন বাংলাদেশি অভিবাসী প্রবেশ করেছেন। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার বাংলাদেশি এই বিপজ্জনক রুট পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পাড়ি জমিয়েছেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

ইউরোপগামী এসব অভিবাসীর সিংহভাগের বয়স ২৫ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে দালালচক্রের খপ্পরে পড়ে তারা প্রথমে লিবিয়ায় পৌঁছান, যেখানে তাদের দীর্ঘ সময় বন্দি রেখে অমানবিক নির্যাতন ও জিম্মি করে অর্থ আদায় করা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা কাঙ্ক্ষিত কর্মসংস্থান না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হন।

শুধু সমুদ্রপথ নয়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সাইবার প্রতারণার ফাঁদেও বাংলাদেশি নাগরিকদের আটকের ঘটনা বেড়েছে। দালালরা চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অনেককে কম্বোডিয়া ও মিয়ানমারের বিভিন্ন সাইবার স্ক্যাম সেন্টারে পাচার করছে। সেখানে তাদের পাসপোর্ট কেড়ে নিয়ে জোরপূর্বক অনলাইন প্রতারণার কাজে লিপ্ত করা হচ্ছে। এছাড়া রাশিয়ার সাথে ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধে কাজের প্রলোভনে নেওয়া অনেক বাংলাদেশিকে ফ্রন্টলাইনে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যার ফলে যুদ্ধে বহু বাংলাদেশির প্রাণহানির মতো ঘটনাও ঘটেছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

নারী পাচারের চিত্রটিও অত্যন্ত শঙ্কা জাগানিয়া। গৃহকর্মী বা পোশাকশ্রমিক হিসেবে বিদেশে পাঠানোর নাম করে অনেক নারীকে পাচারকারীরা যৌন শোষণ ও অমানবিক নির্যাতনের শিকার বানাচ্ছে। পাশাপাশি কক্সবাজার ও টেকনাফ উপকূল ব্যবহার করে রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি বাংলাদেশি নাগরিকদেরও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পাচারের প্রক্রিয়া এখনো সক্রিয় রয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মানবপাচার সংক্রান্ত হাজারো মামলা বর্তমানে বিচারাধীন বা তদন্তাধীন। আইন ও বিচার ব্যবস্থা বিদ্যমান থাকলেও পাচারকারী চক্রের দৌরাত্ম্য পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু আইন প্রয়োগ নয়, বরং পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এবং নজরদারি ও প্রযুক্তিনির্ভর গোয়েন্দা কার্যক্রম আরও জোরদার করার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

সম্পর্কিত- সাগরপথে ইউরোপ
0%
0%
0%
0%