তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ নেতাদের এনসিপিআইয়ে যোগদান নিয়ে তুঙ্গে বিতর্ক ও অন্তর্দ্বন্দ্ব

ভারতের রাজ্য রাজনীতিতে আকস্মিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ বা এনসিপিআই নামক একটি রাজনৈতিক সংগঠন। দীর্ঘকাল আড়ালে থাকা এই দলটি বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী সাংসদদের দলে যোগদানের সম্ভাবনা ঘিরে তুমুল বিতর্কের মুখে পড়েছে। দলের প্রতিষ্ঠাতা শান্তনু দে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সংকট এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে সরব হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনার সৃষ্টি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শান্তনু দে জানান, জনস্বার্থ রক্ষার বৃহত্তর লক্ষ্য নিয়ে ২০২২ সালে দলটির রূপরেখা তৈরি করা হয় এবং ২০২৩ সালের ২০ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত হয় এনসিপিআই। দল গঠনের পর তিনি জাতীয় সংগঠক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ত্রিপুরার সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। তবে রাজনৈতিক চক্রান্তের শিকার হয়ে চারটি মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার পাশাপাশি তাকে শারীরিক আক্রমণের মুখোমুখি হতে হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন। সমস্ত প্রতিকূলতা পেরিয়ে মাত্র তিনটি কেন্দ্রে প্রার্থী দিতে পারলেও, সেই নির্বাচনী লড়াইয়ের ফলাফল বর্তমানে কমিশনের নথিতে সংরক্ষিত রয়েছে।

বর্তমানে এনসিপিআই-এর অন্দরে অস্থিরতার মূল কারণ তৃণমূলের প্রায় ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের দলে যোগদানের বিষয়টি। শান্তনু দে-র অভিযোগ, দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের সঙ্গে কোনো প্রকার পরামর্শ ছাড়াই বর্তমান নেতৃত্ব একতরফাভাবে ওই সাংসদদের অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। তার আশঙ্কা, কোনো বিশেষ আর্থিক স্বার্থ বা অশুভ উদ্দেশ্যে দলটিকে ব্যবহার করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা সংগঠনের মৌলিক আদর্শের পরিপন্থী। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ যেকোনো সিদ্ধান্তে সভাপতির স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক হলেও তা উপেক্ষা করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেছেন।

দলের বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করলেও শান্তনু দে এখনো আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ করেননি। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, দেশের বৃহত্তর স্বার্থ ও সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার অঙ্গীকার করলে এবং দলের তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের পর নির্দিষ্ট শর্ত মেনে চললে তবেই বিদ্রোহীদের গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনকালের কঠোর সমালোচনা করার পাশাপাশি বর্তমান সরকারের জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে রাজপথে নামারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। জনগণের সমর্থন পেলে এনসিপিআই আগামী দিনে সর্বভারতীয় পর্যায়ে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%