সরাইল রিজিয়নে দুই মাসে ২৫টি পুশইন প্রচেষ্টা নস্যাৎ করেছে বিজিবি

কুমিল্লার সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং মাদক চোরাচালান রোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গত দুই মাসে সরাইল রিজিয়নের অধীনে ময়মনসিংহ থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় অন্তত ২৫টি ‘পুশইন’ বা অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি। সর্বশেষ কুমিল্লার সালদা নদী সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকারী চারজনকেও বিজিবি সদস্যরা ফেরত পাঠিয়েছেন।
মঙ্গলবার সকালে কুমিল্লার ১০ ব্যাটালিয়ন বিজিবির ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিজিবির উত্তর-পূর্ব রিজিয়নের (সরাইল) কমান্ডার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী এ তথ্য জানান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সীমান্ত এলাকা দিয়ে চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সাধারণ জনগণসহ স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। বিজিবি একক অভিযান এবং যৌথ টাস্কফোর্সের মাধ্যমে এ ধরনের অপতৎপরতা রুখতে সর্বদা তৎপর রয়েছে।
অনুষ্ঠানে গত তিন বছরে ১০ ব্যাটালিয়ন ও ৬০ ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে জব্দকৃত প্রায় ৫২ কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জনসমক্ষে ধ্বংস করা হয়েছে। বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে চালানো ২০ হাজার ২০০টি অভিযানে এসব মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। অভিযানে মাদকসহ ৫২৬ জন আসামিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তবে আড়াই শতাধিক আসামি পলাতক রয়েছে।
জব্দকৃত মাদকের তালিকায় রয়েছে ৩৪ হাজার ২৩৫ বোতল ফেনসিডিল, ৩৪ হাজার ১৭২ বোতল স্কাফ সিরাপ, ১ লাখ ৫২ হাজার ৩৭২ পিস সেনেগরা ট্যাবলেট, ৪ লাখ ৪২ হাজার ১০২১ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ বিপুল পরিমাণ বিয়ার, হুইস্কি, গাঁজা ও ইয়াবা। এছাড়াও বিপুল পরিমাণ জীবনরক্ষাকারী ও অন্যান্য নিষিদ্ধ ঘোষিত ট্যাবলেট এবং ইনজেকশন জব্দ করা হয়েছে। বিজিবি কর্মকর্তারা জানান, মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসন থেকে যুব সমাজকে রক্ষা করাই তাদের মূল লক্ষ্য।
মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠানে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজী আক্তারসহ বিজিবি ও অন্যান্য বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবির ভূমিকার প্রশংসা করে মাদকের চোরাচালান ও সরবরাহ চেইন সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। সাধারণ জনগণের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই সীমান্তকে মাদক ও অপরাধমুক্ত রাখা সম্ভব বলে অনুষ্ঠানে অভিমত প্রকাশ করা হয়।