উত্তরের পাঁচ জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা কুশিয়ারা অববাহিকায় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত

আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদের পানি ফের বৃদ্ধি পাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। উজানে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাসে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল জিহানের স্বাক্ষর করা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগের নদ-নদীগুলোর পানি কিছুটা কমলেও পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। তিন দিনের মধ্যে উজানের ঢল ও বৃষ্টিপাতের প্রভাবে এসব নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে, যা স্থানীয় জনজীবনে নতুন করে ভোগান্তি তৈরি করবে।

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিশেষ করে ফেঞ্চুগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে নদীতীরবর্তী এলাকাগুলো ঝুঁকিতে রয়েছে। যদিও সুরমা নদীর পানি কিছুটা হ্রাস পেয়েছে, তবে আগামী তিন দিনে সুরমা ও কুশিয়ারা—উভয় নদীর পানিই বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট ও সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি মোটামুটি স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধির ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা আগামী পাঁচ দিন অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়ার বিভিন্ন পয়েন্টে নদ-নদীর পানি সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক প্লাবনের ঝুঁকির কথা জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে ফেনী, মুহুরি, গোমতী ও সেলোনিয়া নদীর পানির স্তর গত ২৪ ঘণ্টায় হ্রাস পেয়েছে। পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় এসব নদীর পানি কিছুটা বাড়লেও সামগ্রিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে উত্তর উড়িষ্যা ও তৎসংলগ্ন বিহার ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এলাকায় একটি লঘুচাপ সক্রিয় রয়েছে, যা দেশের নদ-নদীর বর্তমান পরিস্থিতির ওপর প্রভাব বিস্তার করছে।

0%
0%
0%
0%