যুদ্ধবিরতি ও সেনা প্রত্যাহারের রূপরেখা নিয়ে ট্রাম্প-আউন বৈঠক ওয়াশিংটনে

লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান সংঘাত নিরসন এবং দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহারের রূপরেখা নিয়ে আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে যাত্রা করেছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন। হোয়াইট হাউসের আমন্ত্রণে শনিবার ওয়াশিংটনের পথে রওনা হওয়া আউন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ দেশটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবেন। লেবাননের রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই সফরের মূল লক্ষ্য যুদ্ধবিরতি জোরদার করা এবং লেবাননের সমগ্র ভূখণ্ডে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশটিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা।

বিজ্ঞাপন

দীর্ঘ ১৫ বছর পর লেবাননের কোনো রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ওয়াশিংটন সফর করছেন আউন; সর্বশেষ ২০০৯ সালে প্রেসিডেন্ট মিশেল সুলেইমান ওবামা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়েছিলেন। সম্প্রতি রোমে যুক্তরাষ্ট্র-মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনার রেশ ধরে এই সফরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। ওই আলোচনায় দক্ষিণ লেবাননে ‘পাইলট জোন’ বা পরীক্ষামূলক অঞ্চল তৈরির বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়েছিল, যেখানে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে জুনে স্বাক্ষরিত এই কাঠামোবদ্ধ চুক্তিতে ইসরায়েলি বাহিনীর চূড়ান্ত প্রস্থানের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ নেই। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ইসরায়েলি সেনাসদস্যদের প্রত্যাহার মূলত হিজবুল্লাহসহ অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিরস্ত্রীকরণের ওপর নির্ভরশীল, যা হিজবুল্লাহ বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছে। এদিকে, কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেও ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত বরাবর ১০ কিলোমিটার বিস্তৃত ‘নিরাপত্তা অঞ্চলে’ অবস্থান করছে এবং নিয়মিত বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

শনিবার লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, টায়ার ও নাবতিহ অঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, হিজবুল্লাহর ড্রোন শনাক্ত হওয়ার পর তেবনিতের কাছে তাদের একটি সেলে বিমান হামলা চালানো হয়েছে, যা যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন। তবে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে এই বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন

হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতৃত্ব স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা এই আলোচনা বা নিরস্ত্রীকরণের প্রস্তাব গ্রহণ করবে না। তাদের দাবি, ইরান সমর্থিত এই গোষ্ঠীর ওপর চাপ প্রয়োগ করে নয়, বরং দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের অবসানে শুধুমাত্র তেহরানের কূটনৈতিক চাপের মাধ্যমেই ইসরায়েলি বাহিনীর পূর্ণ প্রত্যাহার সম্ভব। মূলত ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরুর পর থেকে লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে উত্তেজনা দানা বাঁধে, যা গত মার্চে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ নেয়। লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ মাস থেকে চলমান এই ভয়াবহ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৪ হাজারেরও বেশি লেবানিজ নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%