শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে গ্রেপ্তার করে রায় কার্যকর করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আত্মসর্পণ করতে চাইলে তাকে সেই সুযোগ দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, শেখ হাসিনা দেশে পা রাখার সাথে সাথেই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে এবং আদালতের দেওয়া রায় কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনাকে জুলাই মাসের গণহত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আদালত মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা চলতি বছরের ডিসেম্বর নাগাদ দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। দীর্ঘ প্রায় দুই বছর আত্মগোপনে থাকার পর আন্তর্জাতিক কোনো গণমাধ্যমের সঙ্গে এটাই তার প্রথম সরাসরি কথোপকথন। সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, দেশে ফিরে তিনি এবং তার দল আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। যদিও তার এই ঘোষণার প্রেক্ষিতে সরকার কোনো নমনীয়তা দেখাবে না বলে দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেছে।
বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার পর্যন্ত প্রায় এক ঘণ্টার টেলিফোন সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, দেশে ফেরার পর গ্রেপ্তার হওয়া বা প্রাণনাশের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তিনি ফিরতে চান। তিনি অভিযোগ করেন যে, তার দলের নেতাকর্মীদের ওপর চরম দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে। সব প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে নিজ দেশের মাটিতেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে চান বলে অভিমত ব্যক্ত করেন। তার ভাষ্যমতে, তিনি তার বাবা-মায়ের সমাধি সংলগ্ন মাটিতেই ফিরতে আগ্রহী, যেখানে তাদের রক্ত ঝরেছিল।
ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। তবে আন্তর্জাতিক মহলে তার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আজকের বক্তব্য সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরার সাথে সাথেই আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। আদালত কর্তৃক ঘোষিত দণ্ড কার্যকর করার বিষয়ে সরকার তার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে।
