ব্যাংক লুটেরাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে গ্রাহকদের অর্থ ফেরানোর দাবি সংসদে

ব্যাংক খাতের চরম বিশৃঙ্খলা এবং আমানতকারীদের অর্থ লুটপাটের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের সদস্যরা। বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের ২১তম দিনে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা দাবি করেন, ব্যাংক লুটেরাদের কোনোভাবেই ক্ষমা করা যাবে না। তাদের বিদেশ থেকে ফিরিয়ে এনে কঠোর শাস্তির পাশাপাশি জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ উদ্ধারে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
আলোচনায় অংশ নেওয়া সংসদ সদস্য বলেন, দেশের কয়েকটি ব্যাংকে নজিরবিহীন অনিয়ম ও মালিকপক্ষের অর্থপাচারের কারণে আজ লাখ লাখ আমানতকারী নিজেদের জমানো টাকা তুলতে পারছেন না। ব্যাংকে রাখা এই অর্থ কারো চিকিৎসার শেষ সম্বল, কারো মেয়ের বিয়ের স্বপ্ন কিংবা পেনশনের শেষ সঞ্চয়। ব্যাংক খাতের এহেন বিপর্যয়ের ফলে বিনিয়োগ হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি গভীর সংকটের মুখে পড়েছে। তাই লুটেরাদের সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে গ্রাহকদের অর্থ ফেরানোর দাবি জানান তিনি। এ সময় তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যারা অর্থ লুট করেছে, পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকুক না কেন, তাদের ফিরিয়ে এনে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে।
জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক এবং এ ব্যাপারে সরকার কোনোভাবেই নীরব থাকতে পারে না। দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত আর্থিক খাতকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সরকার একটি সুসংগঠিত বহুমাত্রিক রেজুলেশন কাঠামো প্রতিষ্ঠা করেছে। এই কাঠামোর আইনি ভিত্তি হিসেবে ‘ব্যাংক রেজুলেশন আইন ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আরও জানান, সমস্যাগ্রস্ত পাঁচটি ব্যাংক—এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশ-পিএলসি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক-পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক-পিএলসি, সোশাল ইসলামী ব্যাংক-পিএলসি এবং ইউনিয়ন ব্যাংক—একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করে সম্মিলিতভাবে ‘ইসলামী ব্যাংক-পিএলসি’ গঠনের মাধ্যমে আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বর্তমান সরকার তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বদ্ধপরিকর এবং জনগণের আস্থার জায়গাটি পুনর্নির্মাণে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
