বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করতে আগ্রহী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও বিস্তৃত করার ওপর জোর দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। শনিবার সকালে রাজধানীর গুলশান-২ এলাকার বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমদ পার্কে আয়োজিত ‘আমেরিকান ফেয়ার ইন দ্য পার্ক’ অনুষ্ঠান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে গৃহীত ‘আমেরিকা সপ্তাহ’ কর্মসূচির মূল লক্ষ্যই হলো দুই দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন আরও গভীর করা।
রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের আড়াইশ বছরের ইতিহাস কেবল একটি দেশের সীমানায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা বিশ্বজুড়ে বহু জাতিকে স্বাধীনতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের আকাঙ্ক্ষায় উদ্বুদ্ধ করেছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামকেও তিনি সেই বৈশ্বিক চেতনার অংশ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি আরও যোগ করেন, আড়াইশ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ৫৬ জন প্রতিষ্ঠাতা যে ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন, সেই আদর্শ ও মূল্যবোধের গল্প বাংলাদেশের জনগণের সাথে ভাগ করে নেওয়াই এই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
মার্কিন এই কূটনীতিক জানান, কেবল নিজেদের ইতিহাস ও সংস্কৃতি তুলে ধরাই নয়, বরং বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও জীবনধারা সম্পর্কে আরও নিবিড়ভাবে জানার অপেক্ষায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ‘আমেরিকা সপ্তাহ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেটেও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান। এই উদ্যোগগুলোর মাধ্যমে উভয় দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানস্থলটি বিভিন্ন প্রদর্শনী ও তথ্যভিত্তিক স্টলের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস, গণতন্ত্র এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল। সেখানে দর্শকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি এবং গণতান্ত্রিক বিকাশের নানা দিক তুলে ধরা হয়। এই সাংস্কৃতিক আয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫তম ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের ইউএস আর্মি ব্যান্ড মনোজ্ঞ পরিবেশনা উপস্থাপন করে, যা উপস্থিত দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
আয়োজনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান গুলশান সোসাইটির সভাপতি ওমর সাদাত জানান, গুলশান এলাকায় একাধিক দেশের দূতাবাস অবস্থিত হওয়ায় পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদারে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দুই দেশের বন্ধুত্বের এই মেলবন্ধন ভবিষ্যতে আরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেও আয়োজকরা মনে করছেন।