ঢাকায় ৪৪৫টি আশ্রয়স্থল চিহ্নিত, দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক

রাজধানী ঢাকায় ভূমিকম্পসহ ভয়াবহ যেকোনো নগর দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় সর্বমোট ৪৪৫টি নিরাপদ আশ্রয়স্থল চিহ্নিত করেছে সরকার। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিমুজ্জামান মোল্যার প্রশ্নের জবাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এ তথ্য জানান। মন্ত্রী জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকায় ২৫৬টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের এলাকায় ১৮৯টি আশ্রয়স্থল নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব আশ্রয়স্থল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এরই মধ্যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার লক্ষ্যে এক লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছাসেবকদের তথ্য সংগ্রহ করে একটি সমন্বিত ডাটাবেজ তৈরির কাজ চলমান রয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ভূমিকম্প ও সুনামির ঝুঁকির মুখে থাকা বাংলাদেশের জন্য দুর্যোগ প্রস্তুতি এখন সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন-২০১২, জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা এবং দুর্যোগ বিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলি-২০১৯-এর আলোকে দেশের সামগ্রিক দুর্যোগ প্রস্তুতি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। উদ্ধার তৎপরতা ও জরুরি সাড়া প্রদানের সক্ষমতা বাড়াতে ফায়ার সার্ভিস, সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ এবং সিপিপিসহ বিভিন্ন সংস্থাকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও আধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া জাতীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত সভা ও মহড়ার মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি পর্যায়ে ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ড বিষয়ক মহড়া নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে ভূমিকম্প ও সুনামি পর্যবেক্ষণ এবং দ্রুত সতর্কবার্তা প্রচারের ব্যবস্থাকে আরও আধুনিকায়ন ও শক্তিশালী করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি কমাতে নতুন অবকাঠামো নির্মাণে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড বা বিএনবিসি অনুসরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব বহুমুখী উদ্যোগের মাধ্যমে ভূমিকম্প ও সুনামিজনিত ঝুঁকি প্রশমন করে জনগণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।

সম্পর্কিত- ভূমিকম্প
0%
0%
0%
0%