জাতীয় সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে রাজনৈতিক দলগুলোকে বাধ্যবাধকতার তাগিদ নির্বাচন কমিশনের

জাতীয় সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য রাখার আইনি বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের কঠোর নজরদারির আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে উপজেলা পরিষদ পর্যন্ত নারীদের জন্য সরাসরি নির্বাচনের সুযোগ থাকলেও জাতীয় সংসদে সেই দৃশ্যপট অনুপস্থিত, যা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় এক বড় সীমাবদ্ধতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নির্বাচন কমিশনের এক কর্মশালায় আব্দুর রহমান আল মাছউদ জানান, ২০০৮ সালের আইনে রাজনৈতিক দলগুলোর সব পর্যায়ের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য রাখার বাধ্যবাধকতা থাকলেও কোনো দণ্ডবিধির অভাবে তা অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের কথা থাকলেও যথাযথ নজরদারির অভাবে তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, স্বতন্ত্র নারী প্রার্থীদের জন্য নির্ধারিত এক শতাংশ ভোটারের সমর্থনপত্র যাচাইয়ের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন বরাবরই নমনীয় অবস্থান গ্রহণ করে আসছে।

নির্বাচন কমিশনের উপ-সচিব মো. শাহ আলম উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারী প্রার্থীর হার ছিল মাত্র ৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। এই হার আশঙ্কাজনকভাবে কম হওয়ার কারণে ন্যূনতম নারী প্রার্থী নিশ্চিত করতে একটি মজবুত আইনি কাঠামো ও নীতিমালা প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি।

জাতীয় নাগরিক পার্টির নেত্রী মনিরা শারমিন রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতাকে নারী অংশগ্রহণের প্রধান অন্তরায় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, দলের নীতিনির্ধারকরাই সিদ্ধান্ত নেন কারা সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব করবেন, যার ফলে প্রকৃত নেতৃত্ব উঠে আসার পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। দলগুলোকে নারী প্রার্থী দিতে বাধ্য করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে মনিটরিং ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে উপস্থিত নারী নেত্রীরা ও অ্যাকশন এইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির ২০৩০ সালের সময়সীমা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের দাবি, নির্ধারিত সময়সীমা যেন কোনোভাবেই ২০৪০ সালে গিয়ে না দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব মো. আব্দুল হালিম খানসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বক্তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, রাজনৈতিক দলগুলোতে নারীর অংশগ্রহণ কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব রূপ দিতে কমিশনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সম্পর্কিত- ইসি
0%
0%
0%
0%