লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার দরবেশপুর ইউনিয়নের আইয়েনগর পোদ্দার বাড়ির টিকাদান কেন্দ্রে সঠিক স্থানে টিকা না দেওয়ার অভিযোগে এক শিশুর শারীরিক জটিলতা দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগী ১১ মাস বয়সী শিশু জায়ান ইসলামের পরিবার জানায়, গত ২৭ জুলাই নিয়মিত টিকা নেওয়ার সময় টিকাদানকর্মী শারমিন আক্তার শিশুটির ডান পায়ে হাঁটুর নিচে ইনজেকশন দেন। এরপর থেকেই শিশুটির ওই স্থানে ফোঁড়া, পুঁজ ও রক্তক্ষরণের মতো মারাত্মক সমস্যা দেখা দিয়েছে।
শিশুটির স্বজনদের অভিযোগ, টিকা দেওয়ার পর বিষয়টি টিকাদানকর্মী শারমিন আক্তারকে অবহিত করা হলেও তিনি তা আমলে নেননি। উল্টো বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে তিনি নিজের স্বামীর রাজনৈতিক প্রভাবের দোহাই দিয়ে পরিবারটিকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। শিশুটির দাদি রেহানা আক্তার অভিযোগ করেন যে, নাতিকে নিয়ে তারা বর্তমানে চরম বিপদের সম্মুখীন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে টিকাদানকর্মী শারমিন আক্তার দায়সারা মন্তব্য করে বলেন, মানুষের ভুল হতে পারে এবং চিকিৎসকের ভুলে রোগী মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটে থাকে। তবে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যের পর স্থানীয় সচেতন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. খন্দকার মোস্তাক আহমেদ জানান, বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন এবং শিশুটির পরিবারকে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী আতিকুর রহমানের কাছে ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে তিনি বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।