AdvertisementAdvertisement

হলিউডের নতুন বিতর্কের কেন্দ্রে গ্রেগ আরাকির আই ওয়ান্ট ইয়োর সেক্স

হলিউডের রঙিন দুনিয়ায় বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গ্রেগ আরাকি পরিচালিত ইরোটিক কমেডি থ্রিলার সিনেমা ‘আই ওয়ান্ট ইয়োর সেক্স’। গত ৩১ জুলাই মুক্তির পর থেকেই সিনেমাটি দর্শক ও সমালোচক মহলে তৈরি করেছে তুমুল আলোড়ন। ‘বেসিক ইনস্টিঙ্কট’ কিংবা ‘ফিফটি শেডস অব গ্রে’-এর মতো সিনেমার ধারায় যুক্ত হওয়া এই ছবিটি কেবল যৌনতার উত্তাপ ছড়াচ্ছে না, বরং ক্ষমতার ভারসাম্য, বয়সের ব্যবধান ও লিঙ্গীয় রাজনীতির মতো জটিল সব বিষয়কে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।

সিনেমাটির নেপথ্যের গল্পটি বেশ দীর্ঘ ও নাটকীয়। লেখক কার্লি সিওরটিনোর লেখা এই চিত্রনাট্যটি দীর্ঘ তেরো বছর ধরে প্রযোজকের অপেক্ষায় ছিল। শুরুতে গল্পের মূল উপজীব্য ছিল এক ক্ষমতাধর পুরুষ ও তার তরুণী সহকারীর রসায়ন। কিন্তু ‘মি টু’ আন্দোলনের পরবর্তী বাস্তবতায় হলিউডের দৃষ্টিভঙ্গি আমূল বদলে যায়। পরিচালক গ্রেগ আরাকি এই গল্পকে নতুন রূপ দিতে প্রধান দুই চরিত্রের লিঙ্গ পরিবর্তনের সাহসী সিদ্ধান্ত নেন। ফলে পর্দায় দেখা যায় আত্মবিশ্বাসী ও ক্ষমতাধর শিল্পী এরিকা ট্রেসিকে, যার চরিত্রে অলিভিয়া ওয়াইল্ড অনবদ্য অভিনয় করেছেন। তার তরুণ সহকারী এলিয়টের চরিত্রে দেখা মিলেছে কুপার হফম্যানের।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

‘আই ওয়ান্ট ইয়োর সেক্স’ মূলত ‘ফিমেল গেজ’ বা নারীর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে যৌনতাকে দেখার একটি নতুন প্রয়াস। দীর্ঘ সময় ধরে সিনেমায় বয়সে বড় পুরুষের সঙ্গে তরুণীর সম্পর্ককে স্বাভাবিক হিসেবে দেখানো হলেও, উল্টো চিত্রটি সব সময়ই ছিল ট্যাবু বা অস্বস্তিকর। সেই প্রথা ভেঙে ছবিটি এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে—ক্ষমতার অপব্যবহার যদি পুরুষের ক্ষেত্রে অনৈতিক হয়, তবে নারীর ক্ষেত্রে তা কেমন হবে? পরিচালক কোনো সহজ উত্তর না দিয়ে দর্শককে বরং বিবেচনার সুযোগ দিয়েছেন।

প্রযুক্তিগত দিক থেকেও ছবিটি নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর নান্দনিক ব্যবহার নিয়ে পরিচালক গ্রেগ আরাকির ভাষ্য ছিল বেশ ইতিবাচক। শুটিংয়ের সময় রাস্তার কোলাহলের শব্দকে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে নিখুঁতভাবে দূর করে দৃশ্যের মান বজায় রাখা হয়েছে, যা স্বল্প বাজেটের নির্মাতাদের জন্য আশার আলো দেখাচ্ছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

ছবির দৃশ্যধারণের নেপথ্যে থাকা পেশাদারিত্বও এখন সিনেপ্রেমীদের আলোচনার খোরাক। অন্তরঙ্গ দৃশ্যের সমন্বয়কারী বা ইন্টিমেসি কো-অর্ডিনেটর ইয়েহুদা ডুয়েনিয়াস জানিয়েছেন, অলিভিয়া ওয়াইল্ড ও কুপার হফম্যান শুটিংয়ের সময় ‘পেইন স্কেল’ বা ব্যথার মাত্রার একটি বিশেষ পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন। এতে অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে পারস্পরিক স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে। কুপার হফম্যানের জন্য এটি ছিল প্রথম অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয়ের চ্যালেঞ্জ। নিজের ভয়কে জয় করে তিনি যেভাবে চরিত্রটিকে ফুটিয়ে তুলেছেন, তা প্রশংসার দাবি রাখে।

সব মিলিয়ে ‘আই ওয়ান্ট ইয়োর সেক্স’ কেবল একটি সিনেমা নয়, বরং সমকালীন হলিউডের সাংস্কৃতিক বিতর্কের এক দর্পণ। বছরের পর বছর ডাস্টবিনে পড়ে থাকা একটি চিত্রনাট্য কীভাবে সময়ের প্রয়োজনে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে, এটি তারই জ্বলন্ত উদাহরণ। সাহসিকতা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং গভীর মনোস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের মিশেলে নির্মিত এই ছবিটি নিঃসন্দেহে বর্তমান সময়ের অন্যতম আলোচিত হলিউড প্রোডাকশন।

0%
0%
0%
0%